
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গরু চোর সন্দেহে দুই ভাইকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান হাবিব হোসেন (৪৫) নামে একজন, আর গুরুতর আহত হন তার ভাই সুমন হোসেন (৪০)। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বারোবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ও আহত দুজনই যশোরের আরাপপুর গ্রামের মৃত আয়ুব হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারোবাজারের বাদুরগাছা গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের বাড়ি থেকে গভীর রাতে দুটি গরু চুরি হয়। চুরির বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাইরে এসে চিৎকার ও খোঁজাখুঁজি শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং চোরদের খুঁজতে বের হন স্থানীয়রা।
এক পর্যায়ে রাত ৩টার দিকে পিরোজপুর বটতলা এলাকা থেকে হাবিব ও সুমনকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাদের বাদুরগাছা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর গণপিটুনি চালালে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হাবিবের এবং গুরুতর আহত হন সুমন।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাবিবের মরদেহ ও আহত সুমনকে উদ্ধার করে। পরে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং আহত সুমনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, গরু চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত এবং অপরজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই আইনসম্মত নয় এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়ার বিধান রয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 





















