
অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জীবনের প্রথম একক কনসার্টে গান গেয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনায় এসেছেন তিনি। প্রথম কনসার্টের সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশে ফিরেছেন এই অভিনেতা, আর ফিরেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অভিনয়ের কাজে। একদিকে বিদেশের মঞ্চে গান গেয়ে দর্শকের প্রশংসা কুড়ানো, অন্যদিকে দেশে ফিরে একের পর এক নাটকের কাজ—সব মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় অপূর্বর জীবনের প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ে জনপ্রিয় হলেও গানেও যে তিনি দর্শকদের মন জয় করতে পারেন, সেই প্রমাণ মিলেছে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। কনসার্টের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আরও একক কনসার্টের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি, তবে আপাতত সেসব প্রস্তাবে সাড়া না দিয়েই দেশে ফিরে এসেছেন।
প্রথম কনসার্টের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, জীবনের প্রথম কনসার্ট হওয়ায় তার ওপর যথেষ্ট চাপ ছিল। কোনো স্পন্সর না নেওয়ায় সেই চাপ ও চ্যালেঞ্জ আরও বেশি অনুভূত হয়েছিল বলে জানান তিনি। শুরুতে কিছুটা শঙ্কায় থাকলেও ঘোষণা দেওয়ার পর ধীরে ধীরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হতে দেখেন তিনি।
নিউইয়র্কের এই কনসার্টে শুধু স্থানীয় দর্শকই নন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকেও উপস্থিত হন দর্শকরা। অনুষ্ঠানে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তার কয়েকজন সহশিল্পীও। গান পরিবেশনের পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনেও অংশ নেন অপূর্ব।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে অপূর্ব বলেন, শুধু নিউইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে দর্শকরা তার কনসার্ট উপভোগ করতে এসেছিলেন। তার মতে, জীবনের প্রথম গানের অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে এক অবিশ্বাস্য স্মরণীয় সন্ধ্যা। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি স্টেট থেকে গান গাওয়ার প্রস্তাব পেলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, কেননা নিয়মিত শো করলে শ্রোতাদের প্রতি তার আকর্ষণ কমে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
কনসার্টে গান পরিবেশনের পাশাপাশি নানা আবেগঘন মুহূর্তের মুখোমুখিও হন অপূর্ব। কখনো গেয়েছেন, কখনো দর্শকের সঙ্গে কথা বলেছেন, আবার কখনো আবেগে ভেসেছেন—এই অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবার ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ ও অভিভূত, দিনটি তার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদেশের মাটিতে গান গাওয়ার ব্যস্ততা শেষে দেশে ফিরেই অভিনয়ের কাজে মনোযোগ দিয়েছেন অপূর্ব। ইতোমধ্যে মাশরিকুল আলম ও মাহমুদুর রহমান হিমির নাটকে কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া সৈয়দ শাকিল, রুবেল হাসান, জাকারিয়া সৌখিন, মুরসালিন শুভ ও এস আর মজুমদারের নাটকেও তাকে দেখা যাবে।
অপূর্ব জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে আটটি নাটকের কাজ শেষ করে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে দীর্ঘ সময় দেশে অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ বিদেশে গান আর দেশে নাটকের শুটিং—দুই মাধ্যমেই আপাতত ব্যস্ত থাকবেন এই অভিনেতা।
দেশে ফিরে নাটকের কাজ শুরু প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, প্রথম কনসার্টের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশে ফিরে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। যাদের নাটকে কাজ করছেন বা করবেন, প্রত্যেকের গল্পই দারুণ বলে জানান তিনি। বিশেষত সৈয়দ শাকিলের নাটকের গল্প বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে তিনি অভিনয় করেছেন শার্লিনের বিপরীতে। দীর্ঘদিন পর তার সঙ্গে কাজ করলেও কাজের বোঝাপড়া ভালো থাকায় তা সহজেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান অপূর্ব।
আসন্ন নাটকগুলোতে সময়ের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন অপূর্ব। দর্শকের প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই ভালো গল্পের নাটক বেছে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি, এবং আশা প্রকাশ করেন প্রতিটি নাটকই দর্শকের ভালো লাগবে।
অভিনয় তার মূল পরিচয় হলেও নিউইয়র্কের প্রথম একক কনসার্ট অপূর্বর শিল্পীসত্তার আরেকটি দিক সামনে এনেছে। বিদেশের মাটিতে গান গেয়ে পাওয়া দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই এখন দেশের নাটকের কাজে ফিরেছেন তিনি, ফলে আগামী দিনগুলোতে তার ব্যস্ততায় থাকবে অভিনয়ের নানা গল্প, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেই স্মরণীয় সংগীতসন্ধ্যার অভিজ্ঞতাও থেকে যাবে তার ক্যারিয়ারের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে।
বিনোদন ডেস্কঃ 

























