ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাবেন মির্জা ফখরুল ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীকে যৌন নিপীড়ন, কবিরাজের ১০ বছরের কারাদণ্ড নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট মা, পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন ১১ বছরের শিশুর সন্তানের সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএ মিল জামায়াত এমপি শাহজাহানের পিএসের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা ৫ হাজার ৩১০ ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই ও সহযোগী গ্রেপ্তার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ- আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর মাগুরার আলোচিত শিশু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ জিম্মার শর্ত ভঙ্গ, বন বিভাগের হেফাজতে ফিরল ‘নিহার কলি’ ও ‘সম্রাট বাহাদুর’ রংপুরে চার খুন-ময়নাতদন্তে মিলল শ্বাসরোধের আলামত

নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট মা, পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৩:১৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৬ Time View

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার; একই সঙ্গে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে রায় ঘোষণার পর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সরকারের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্ট মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

রায় ঘোষণার পর সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ায় নুসরাতের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার মা শিরিন আক্তার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মেয়ের হত্যার ঘটনায় বিচার পাওয়ায় তিনি রায়ে সন্তুষ্ট। দীর্ঘ সাত বছর মেয়েকে ছাড়া কাটানোর কষ্টের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শিরিন আক্তার বলেন, সিরাজ উদদৌলাকে কেন্দ্র করেই তার মেয়েকে হারাতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। হাইকোর্টের রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

রায় ঘোষণার পর নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। শিরিন আক্তার অভিযোগ করেন, তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে তার ছেলেদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণে পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই আসামিদের স্বজনদের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন হুমকি অব্যাহত থাকার কথা জানান তিনি।

২০১৯ সালের সেই ঘটনা

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় হাইকোর্টে।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

বাড়িতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশিম জানান, নুসরাতের ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাবেন মির্জা ফখরুল

নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট মা, পরিবারের নিরাপত্তা চাইলেন

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:১৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। তবে রায় ঘোষণার পর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সরকারের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) হাইকোর্ট মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

রায় ঘোষণার পর সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ায় নুসরাতের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার মা শিরিন আক্তার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মেয়ের হত্যার ঘটনায় বিচার পাওয়ায় তিনি রায়ে সন্তুষ্ট। দীর্ঘ সাত বছর মেয়েকে ছাড়া কাটানোর কষ্টের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শিরিন আক্তার বলেন, সিরাজ উদদৌলাকে কেন্দ্র করেই তার মেয়েকে হারাতে হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। হাইকোর্টের রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

রায় ঘোষণার পর নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। শিরিন আক্তার অভিযোগ করেন, তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে তার ছেলেদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এ কারণে পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই আসামিদের স্বজনদের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন হুমকি অব্যাহত থাকার কথা জানান তিনি।

২০১৯ সালের সেই ঘটনা

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় হাইকোর্টে।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

বাড়িতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা

হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশিম জানান, নুসরাতের ভাইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত ওই এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।