
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কবিরাজি চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের কথা বলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মো. হানিফ শেখ (৫১) নামে এক কবিরাজকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় কবিরাজ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং নিজ বাড়িতে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগী দেখতেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ ওই কিশোরীকে ঝাড়ফুঁক করানোর উদ্দেশ্যে হানিফ শেখের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরদিন চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে আবারও নিজের ঘরে নিয়ে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসার আড়ালে কিশোরীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে কিশোরী ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এরপর ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে হানিফ শেখকে একমাত্র আসামি করে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র
মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারীর ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মধুসূধন পান্ডে।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মে হানিফ শেখকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত সোমবার আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূইয়া বলেন, কবিরাজি চিকিৎসার নামে এ ধরনের অপরাধ গুরুতর। এমন ঘটনায় আইনের প্রয়োগ ও বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।
অধিকার ডেস্কঃ 




















