
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের কোনো দায় নেবে না বলে জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।
দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাবি শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি জানান, তাঁদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দপ্তর মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। এভাবে অন্যান্য দপ্তরের ওপর দায় চাপিয়ে ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়ানো যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি কোন দপ্তরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তার তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। তাঁর ভাষ্য, সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁদের প্যানেলের প্রার্থী না হওয়ায় তাঁর কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির বহন করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা।
রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, ইতিমধ্যে রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস পার হতে চলেছে। এখনই পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ না করা হলে যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন পায়, তা নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তিনি।
গত ১০ মাসে রাকসুর অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে এখন আর আগের মতো ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনা ঘটছে না। আগের তুলনায় ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তারও অনেকটাই কমে এসেছে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং আসন বাণিজ্যের প্রথা বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যে, গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির অবসান ঘটেছে এবং এখন মেধা ও সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হচ্ছে, যা এই সময়ের অন্যতম বড় পরিবর্তন বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ 























