ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
একসঙ্গে নিভল পাঁচ শিশুর প্রাণের প্রদীপ- পাশাপাশি কবরে শায়িত যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জে আটক রংপুরে ৪ খুন-গাফিলতির কোন সুযোগ নেই, আশ্বাস নতুন পুলিশ কমিশনারের নেপালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন- দেশে ফিরে অপু বিশ্বাস টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩ গাজীপুরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫ পাইপগান ও সাড়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপুরে চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল কারওয়ান বাজারে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ড, স্থানীয়দের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণ গোপালগঞ্জে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল-বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৪০

চিনির বাজারে সরবরাহ সংকট, কেজিতে দাম বেড়েছে আরও ৫ টাকা

সরবরাহ সংকটে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে চিনির দাম, কমেছে মোড়কজাত চিনির প্রাপ্যতা।

সরবরাহ সংকটের কারণে রাজধানীর বাজারে চিনির দাম আবারও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। এর আগে দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছিল প্রায় ১৫ টাকা। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোড়কজাত চিনির সরবরাহও কমে গেছে। ফলে একাধিক দোকানে খোঁজ করেও প্যাকেটজাত চিনি না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড বাজার ও টাউন হল বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। একই সঙ্গে মিলগেট থেকে সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন কারখানায় চিনির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সংকটের প্রভাবেই গত দুই সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানে খোলা চিনি নেই। একই অবস্থা মোড়কজাত চিনির ক্ষেত্রেও। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ১০টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে মাত্র তিনটিতে প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া গেছে। খোলা চিনি পাওয়া গেছে ছয়টি দোকানে।

বেশির ভাগ দোকানে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী ইমাম পাটোয়ারী বলেন, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে একটি বস্তা কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লাগছে।

এদিকে কিছু দোকানে মোড়কজাত লাল চিনি পাওয়া গেলেও সেটির দাম আরও বেশি। প্রতি কেজি লাল চিনি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সাকিব ইমাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, এক ক্রেতা প্যাকেটজাত চিনি চাইলেও দোকানে তা না থাকায় তিনি পাশের দোকান থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে খোলা চিনি এনে দিয়েছেন।

টাউন হল বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে খোলা চিনির দাম মোড়কজাত চিনির চেয়েও বেশি। এ কারণে কোনো কোনো দোকানি প্যাকেটজাত চিনি খুলে খোলা হিসেবে বিক্রি করছেন। আবার কিছু দোকানে প্যাকেটজাত চিনি মজুত থাকলেও তা বিক্রি না করে নেই বলে জানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারাও। টাউন হল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা তাজমহল রোডের বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, প্যাকেটজাত চিনি কিনতে কয়েকটি দোকানে ঘুরেও তা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বেশি দামে খোলা চিনি কিনতে হয়েছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চিনির বাজারে সংকট আরও বাড়তে পারে। এতে আগামী দিনে পণ্যটির দামও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

একসঙ্গে নিভল পাঁচ শিশুর প্রাণের প্রদীপ- পাশাপাশি কবরে শায়িত

চিনির বাজারে সরবরাহ সংকট, কেজিতে দাম বেড়েছে আরও ৫ টাকা

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সরবরাহ সংকটের কারণে রাজধানীর বাজারে চিনির দাম আবারও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। এর আগে দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছিল প্রায় ১৫ টাকা। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মোড়কজাত চিনির সরবরাহও কমে গেছে। ফলে একাধিক দোকানে খোঁজ করেও প্যাকেটজাত চিনি না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড বাজার ও টাউন হল বাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি, মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। একই সঙ্গে মিলগেট থেকে সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন কারখানায় চিনির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সংকটের প্রভাবেই গত দুই সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানে খোলা চিনি নেই। একই অবস্থা মোড়কজাত চিনির ক্ষেত্রেও। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ১০টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে মাত্র তিনটিতে প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া গেছে। খোলা চিনি পাওয়া গেছে ছয়টি দোকানে।

বেশির ভাগ দোকানে খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি খোলা চিনি ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তার আগের সপ্তাহে দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী ইমাম পাটোয়ারী বলেন, গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে একটি বস্তা কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লাগছে।

এদিকে কিছু দোকানে মোড়কজাত লাল চিনি পাওয়া গেলেও সেটির দাম আরও বেশি। প্রতি কেজি লাল চিনি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সাকিব ইমাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, এক ক্রেতা প্যাকেটজাত চিনি চাইলেও দোকানে তা না থাকায় তিনি পাশের দোকান থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে খোলা চিনি এনে দিয়েছেন।

টাউন হল বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে খোলা চিনির দাম মোড়কজাত চিনির চেয়েও বেশি। এ কারণে কোনো কোনো দোকানি প্যাকেটজাত চিনি খুলে খোলা হিসেবে বিক্রি করছেন। আবার কিছু দোকানে প্যাকেটজাত চিনি মজুত থাকলেও তা বিক্রি না করে নেই বলে জানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারাও। টাউন হল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা তাজমহল রোডের বাসিন্দা বাহারুল ইসলাম বলেন, প্যাকেটজাত চিনি কিনতে কয়েকটি দোকানে ঘুরেও তা পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বেশি দামে খোলা চিনি কিনতে হয়েছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চিনির বাজারে সংকট আরও বাড়তে পারে। এতে আগামী দিনে পণ্যটির দামও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।