ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডেঙ্গুর চোখ রাঙানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ- শহর পেরিয়ে গ্রামেও সংক্রমণের শঙ্কা ইবি ছাত্র ইউনিয়নের নতুন কমিটি, সভাপতি নুর আলম ও সম্পাদক সজীব “একটি সহানুভূতিশীল কথাই বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ” মেঘনার ভাঙনে ঝুঁকিতে ২০ কিলোমিটার উপকূল, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ রায়পুরে দেড় বছরেও শুরু হয়নি উন্নয়নকাজ, পৌরসভার কাছে ব্যাখ্যা চাইল IUGIP শুক্রবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল রিফাতের, একদিন আগেই ফিরলেন-তবে নিথর লাশ হয়ে পাটওয়ারীর গাড়ি বিতর্কে আলোচিত তুষার ভূঁইয়াই মাদারীপুর এনসিপির আহ্বায়ক গেন্ডারিয়ায় মাদক আধিপত্য নিয়ে গোলাগুলি, গ্রেপ্তার ৫ ৫ গোল হজমের পর বার্সেলোনাকে বিশ্বের সেরা বললেন ফেইনুর্দ কোচ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

ডেঙ্গুর চোখ রাঙানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ- শহর পেরিয়ে গ্রামেও সংক্রমণের শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিশেষ সভা।

বর্ষা পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা। শহরকেন্দ্রিক এডিস মশার বিস্তার এখন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঝোপঝাড়, নোংরা ড্রেন ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা হাসপাতালের হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আবার অনেক রোগী সরাসরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। ফলে জেলায় ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আরও ব্যাপক নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ, চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সভা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কিত’ এ সভায় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।সূচনা বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন।  সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান।

এ সময় আলোচনা করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক শুকলাল বৈদ্য, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশিদসহ অন্যান্যরা।

সভায় মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন শহর পরিকল্পনাবিদ ইমরান হোসেন।

সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, মশার উৎসেই আঘাত

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই চলবে না। সংক্রমণের মূল উৎস—এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

এডিস মশা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। ফেলে রাখা প্লাস্টিকের পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পাত্র, পরিত্যক্ত সামগ্রী কিংবা ছাদ ও আঙিনায় জমে থাকা পানি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।

এ কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় ঝোপঝাড় ও ড্রেন পরিষ্কার, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ, জমে থাকা পানি অপসারণ, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার টানানো এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শহর থেকে গ্রাম—সবখানে অভিযান চালানোর তাগিদ

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পৌরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। শহরের পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

সভায় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে মসজিদের ইমাম ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ডেঙ্গু প্রতিরোধের লড়াইয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। কারণ একটি বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে জমে থাকা পানি অপসারণ না হলে শুধু বাইরের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

‘পরিস্থিতিকে বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করতে হবে’

সভায় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে জরুরি ও সম্ভাব্য বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

আগামী তিন মাস সবাইকে সমন্বিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, কেবল প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রত্যেক ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

হাসপাতাল প্রস্তুত থাকবে, তবে লক্ষ্য সংক্রমণ ঠেকানো

সভায় ডেঙ্গু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের পর দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং রোগীর অবস্থার ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে রোগী শনাক্ত থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।

জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তবে সভায় আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় একটি বিষয়—হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর চেয়ে আগে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে সংক্রমণের পথ বন্ধ করা।

কারণ একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অর্থ শুধু একজনের অসুস্থতা নয়; তার আগেই এলাকায় সংক্রমণের একটি চক্র তৈরি হয়ে যেতে পারে।

সচেতনতার কথা শুধু পোস্টারে নয়, বাস্তবেও দেখতে হবে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট ও সভা-সেমিনারের গুরুত্ব থাকলেও বাস্তবে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশ্ন উঠেছে—বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ হচ্ছে কি না, নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে আছে কি না, পরিত্যক্ত টায়ার ও পাত্র সরানো হচ্ছে কি না কিংবা নোংরা ড্রেন ও ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে কি না?

কারণ সচেতনতার বার্তা তখনই কার্যকর হবে, যখন প্রতিটি পরিবার নিজেদের পরিবেশকে এডিসমুক্ত রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক প্রচার-প্রচারণা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনসচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

একদিনের অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিংবা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযান চালিয়ে ছবি তুলে দায়িত্ব শেষ করার পরিবর্তে বাস্তবে কোথায় এডিস মশার প্রজননস্থল রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে কি না এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে—সেসব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর ধারাবাহিক নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হচ্ছে প্রতিরোধ। একজন রোগী হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে এডিস মশার জন্মস্থল ধ্বংস করে নতুন সংক্রমণ প্রতিরোধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি, একটি পরিত্যক্ত টায়ার, একটি ডাবের খোসা কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের কোনো পাত্র থেকেই এডিস মশার বংশবিস্তার শুরু হতে পারে। ফলে ডেঙ্গুর বাহক মশা কোনো প্রশাসনিক সীমানা মানে না—একটি এলাকার অবহেলা অন্য এলাকাতেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

১২ সেপ্টেম্বর জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

সভায় জানানো হয়, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় কর্মসূচি উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হবে।

এ কর্মসূচিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ তৈরি হবে।

২০ সেপ্টেম্বর নয়, আজ থেকেই প্রস্তুতির সময়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সভাকে নিছক একটি প্রশাসনিক বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ কম। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বড় পরিসরে চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেয়ে আগেভাগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা বেশি কার্যকর।

এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত কত দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা যায়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান যদি শুধু লোকদেখানো কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে, জনসচেতনতা যদি শুধু ব্যানার-পোস্টারেই আটকে যায় এবং বাড়ি-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রজননস্থল ধ্বংস না হয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই এখন তিনটি জায়গায়—মশার উৎসে আঘাত, হাসপাতালে চিকিৎসা প্রস্তুতি এবং ঘরে ঘরে সচেতনতা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই যদি এই তিন স্তরে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

এখন সময় কেবল সভা করার নয়—সিদ্ধান্তকে মাঠে নামানোর। কারণ ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ঢিলেমি মানেই এডিস মশাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুর চোখ রাঙানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ- শহর পেরিয়ে গ্রামেও সংক্রমণের শঙ্কা

ডেঙ্গুর চোখ রাঙানিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ- শহর পেরিয়ে গ্রামেও সংক্রমণের শঙ্কা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্ষা পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গুর শঙ্কা। শহরকেন্দ্রিক এডিস মশার বিস্তার এখন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঝোপঝাড়, নোংরা ড্রেন ও বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা হাসপাতালের হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আবার অনেক রোগী সরাসরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। ফলে জেলায় ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আরও ব্যাপক নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণ, চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সভা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কিত’ এ সভায় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী।সূচনা বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন।  সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনিসুর রহমান।

এ সময় আলোচনা করেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক শুকলাল বৈদ্য, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশিদসহ অন্যান্যরা।

সভায় মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন শহর পরিকল্পনাবিদ ইমরান হোসেন।

সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, মশার উৎসেই আঘাত

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই চলবে না। সংক্রমণের মূল উৎস—এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

এডিস মশা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। ফেলে রাখা প্লাস্টিকের পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পাত্র, পরিত্যক্ত সামগ্রী কিংবা ছাদ ও আঙিনায় জমে থাকা পানি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।

এ কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় ঝোপঝাড় ও ড্রেন পরিষ্কার, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ, জমে থাকা পানি অপসারণ, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার টানানো এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শহর থেকে গ্রাম—সবখানে অভিযান চালানোর তাগিদ

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পৌরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। শহরের পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

সভায় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে মসজিদের ইমাম ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ডেঙ্গু প্রতিরোধের লড়াইয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। কারণ একটি বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে জমে থাকা পানি অপসারণ না হলে শুধু বাইরের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

‘পরিস্থিতিকে বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করতে হবে’

সভায় জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে জরুরি ও সম্ভাব্য বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ব্যাপক গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

আগামী তিন মাস সবাইকে সমন্বিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, কেবল প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রত্যেক ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

হাসপাতাল প্রস্তুত থাকবে, তবে লক্ষ্য সংক্রমণ ঠেকানো

সভায় ডেঙ্গু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের পর দ্রুত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং রোগীর অবস্থার ওপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে রোগী শনাক্ত থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।

জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

তবে সভায় আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় একটি বিষয়—হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর চেয়ে আগে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে সংক্রমণের পথ বন্ধ করা।

কারণ একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অর্থ শুধু একজনের অসুস্থতা নয়; তার আগেই এলাকায় সংক্রমণের একটি চক্র তৈরি হয়ে যেতে পারে।

সচেতনতার কথা শুধু পোস্টারে নয়, বাস্তবেও দেখতে হবে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট ও সভা-সেমিনারের গুরুত্ব থাকলেও বাস্তবে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশ্ন উঠেছে—বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ হচ্ছে কি না, নির্মাণাধীন ভবনে পানি জমে আছে কি না, পরিত্যক্ত টায়ার ও পাত্র সরানো হচ্ছে কি না কিংবা নোংরা ড্রেন ও ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে কি না?

কারণ সচেতনতার বার্তা তখনই কার্যকর হবে, যখন প্রতিটি পরিবার নিজেদের পরিবেশকে এডিসমুক্ত রাখতে সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক প্রচার-প্রচারণা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনসচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

একদিনের অভিযান নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক নজরদারি

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিংবা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযান চালিয়ে ছবি তুলে দায়িত্ব শেষ করার পরিবর্তে বাস্তবে কোথায় এডিস মশার প্রজননস্থল রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে কি না এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে—সেসব নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এ কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর ধারাবাহিক নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হচ্ছে প্রতিরোধ। একজন রোগী হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে এডিস মশার জন্মস্থল ধ্বংস করে নতুন সংক্রমণ প্রতিরোধ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি, একটি পরিত্যক্ত টায়ার, একটি ডাবের খোসা কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের কোনো পাত্র থেকেই এডিস মশার বংশবিস্তার শুরু হতে পারে। ফলে ডেঙ্গুর বাহক মশা কোনো প্রশাসনিক সীমানা মানে না—একটি এলাকার অবহেলা অন্য এলাকাতেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

১২ সেপ্টেম্বর জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

সভায় জানানো হয়, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় কর্মসূচি উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হবে।

এ কর্মসূচিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ তৈরি হবে।

২০ সেপ্টেম্বর নয়, আজ থেকেই প্রস্তুতির সময়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সভাকে নিছক একটি প্রশাসনিক বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ কম। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বড় পরিসরে চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেয়ে আগেভাগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা বেশি কার্যকর।

এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত কত দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা যায়।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান যদি শুধু লোকদেখানো কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকে, জনসচেতনতা যদি শুধু ব্যানার-পোস্টারেই আটকে যায় এবং বাড়ি-বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রজননস্থল ধ্বংস না হয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে।

তাই জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই এখন তিনটি জায়গায়—মশার উৎসে আঘাত, হাসপাতালে চিকিৎসা প্রস্তুতি এবং ঘরে ঘরে সচেতনতা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই যদি এই তিন স্তরে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

এখন সময় কেবল সভা করার নয়—সিদ্ধান্তকে মাঠে নামানোর। কারণ ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ঢিলেমি মানেই এডিস মশাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।