
ত্বকের যত্নে নিয়মিত ফেসওয়াশ, সিরাম কিংবা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেও অনেকের ত্বকে কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা দেখা যায় না। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় স্কিনকেয়ার পণ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই ত্বকের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ত্বকের সুস্থতা ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতার সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক, ক্লান্ত ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। তাই বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ডা. গুরভিন ওয়ারাইচ।
তার মতে, প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি রাখা উচিত। একই ধরনের খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রঙ ও ধরনভেদে বিভিন্ন ফলমূল ও সবজি খেলে শরীর নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান পেতে পারে।
খাবারের সঙ্গে ত্বকের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক
ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অনেকাংশে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার ওপর নির্ভর করে। ফল ও শাকসবজিতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।
তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি। শুধু ত্বকে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের পরিবর্তে শরীরের ভেতর থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা দরকার।
রঙিন খাবার কেন খাবেন
বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজিতে আলাদা আলাদা ধরনের পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যেমন টমেটো ও তরমুজে থাকা লাইকোপিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
হলুদ, কমলা ও সবুজ রঙের বিভিন্ন ফল ও সবজিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড। অন্যদিকে কমলালেবু, পেয়ারা, আমলকী ও ক্যাপসিকামের মতো খাবার ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস।
এ ছাড়া বেরি, বেগুনি বাঁধাকপি ও অন্যান্য গাঢ় রঙের ফল ও সবজিতে অ্যান্থোসায়ানিন পাওয়া যায়। এসব খাবার খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করে।
একটি খাবারের ওপর নির্ভর নয়
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবারকে ‘সেরা’ ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খেলে শরীর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. গুরভিন ওয়ারাইচ ত্বকের কোলাজেন পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিংয়ের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন। ব্যায়াম শুরু করার ক্ষেত্রে শরীরকে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করার পাশাপাশি প্রগ্রেসিভ ওভারলোড অনুসরণ এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে শুধু স্কিনকেয়ার পণ্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও নিয়মিত শরীরচর্চার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। এসব অভ্যাস শুধু ত্বক নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
নিজস্ব প্রতিনিধি 

























