
ময়মনসিংহের ভালুকায় যাত্রীকে জোরপূর্বক বাসে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বাস, দেশীয় অস্ত্র এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ও ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভালুকা মডেল থানাধীন স্কয়ার মাস্টার বাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘স্বপ্ন সুপার শপ’-এর সামনে ডাকাতির খবর পেয়ে অভিযান চালায় সিপিএসসি, র্যাব-১৪, ময়মনসিংহের একটি দল।
র্যাব জানায়, সংবাদ পাওয়ার পরপরই তাদের একটি দল কোতোয়ালি থানাধীন ঢাকা বাইপাসের সওদাগর ফিলিং স্টেশনের সামনে চেকপোস্ট স্থাপন করে। কিছুক্ষণ পর সন্দেহভাজন বাসটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক বাসটি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে চেকপোস্ট অতিক্রম করে। প্রায় ৩০০ গজ সামনে গিয়ে বাসটি থামিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে একজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন ময়মনসিংহ জেলার মো. জাবেদ ইকবাল ওরফে বাদল (৪০)।
র্যাবের অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি বাস, একটি সুইচগিয়ার, একটি চাকু, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার শিকার মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৪) বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ শাখায় কর্মরত। অফিসের কাজে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় যান তিনি।
কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভালুকা থেকে ঢাকাগামী ‘মা-বাবার দোয়া’ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন জাহাঙ্গীর। কিছুদূর যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে গেলে বাসটি ইউটার্ন করে। এ সময় বাসে থাকা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে জিম্মি করে তাঁর মোবাইল ফোন, ছয়টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং নগদ ১৮ হাজার টাকা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে পথিমধ্যে বাস থামিয়ে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর ছোট ভাই ও এক সহকর্মীর কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা আনতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় আইনগত সহায়তা চেয়ে জাহাঙ্গীর আলম ভালুকা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জাবেদ ইকবাল ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাবের দাবি, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভালুকা ও আশপাশের মহাসড়কে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের টার্গেট করে জোরপূর্বক বাসে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে ভালুকা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে র্যাব-১৪-এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শফিয়েল আলম সুমন,ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 





















