
চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট জমা রাখার ঘটনায় আলোচনায় আসা মোহাম্মদ মহসিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মহসিনের বয়স ৩৭ বছর। তাঁর বাবার নাম জাহাঙ্গীর আলম, মায়ের নাম মাসুদা আক্তার এবং স্ত্রীর নাম নুসরাত জাহান স্নিগ্ধা।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাদের থাকার জন্য নগরের খুলশী এলাকায় একটি আটতলা ভবন ভাড়া করে দিয়েছিলেন তিনি। ওই বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হওয়ার পর তাদের সঙ্গে মহসিনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিম জানান, মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় এবং তিনি নগরের কর্ণফুলী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে তাঁর কী ধরনের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের কর্মকাণ্ডে মহসিনের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মহসিনের পেছনে আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তাও শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন মহসিন। পরবর্তীতে চালানটি ফেরত আসে। এই ঘটনার তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়েই ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং তাদের সঙ্গে মহসিনের যোগাযোগের বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে বলে জানানো হয়েছে।
কোকেন পাঠানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শনিবার সন্ধ্যায় মহসিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় মহসিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ডও চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি আবদুর রহিম বলেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক, তাদের কর্মকাণ্ড এবং এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের যোগাযোগের ধরন, তাদের জন্য ভবন ভাড়া নেওয়ার কারণ এবং তাদের কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
অধিকার ডেস্কঃ 





















