
ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা-যশোর মহাসড়ক এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে গত তিন দিন ধরে প্রতিটি পরিবহন বাস থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আটকে দেওয়া হচ্ছে পরিবহন।
গত শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মোড় পার হওয়ার সময় দুটি স্থানে দাঁড়িয়ে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো আটকাচ্ছেন কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের হাতে থাকা লাঠিতে লাল পতাকা বাঁধা রয়েছে। কোনো বাস আসতে দেখলেই কয়েকজন সড়কের ওপর গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন এবং বাস আটকে দিয়ে প্রতিটি বাস থেকে ৬০ টাকা করে আদায়ের পরই ছেড়ে দিচ্ছেন। টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কোনো বাসকে ছাড়া হচ্ছে না।
বাস থামিয়ে সুপারভাইজারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় কিসের জন্য এই অর্থ, জানতে চাইলে তিনি জানান, চাঁদা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে টাকা তোলার কারণ জানতে চাইলে মজনু শেখ নামের একজন বলেন, সারা দেশেই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এভাবে টাকা তোলা হয়। তাঁরাও শ্রমিকদের কল্যাণের জন্যই বাস থেকে ৬০ টাকা করে সংগ্রহ করছেন। তাঁর দাবি, আহত ও নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তার উদ্দেশ্যেই এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা শ্রমিকদের কল্যাণেই ব্যয় হবে। ফরিদপুর মোটর শ্রমিক ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন-১০৫৫ নামের সমিতির দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসচালক বলেন, এমনিতেই যাত্রী সংকট এবং জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমূল্যের কারণে ট্রিপ পরিচালনা করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে, তার ওপর এই বাড়তি চাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা বাস মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন বলেন, তাঁরা চাঁদা তোলা শুরু করলে তিনি বিষয়টিতে আপত্তি জানিয়ে নিষেধ করেছেন এবং এভাবে সড়কে চাঁদা তোলার কোনো নিয়ম নেই বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
অধিকার ডেস্কঃ 





















