ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

কোমা থেকে ফুটবলের মঞ্চে জামাল ভূঁইয়া, এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১১:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৪৭ Time View

ফিফার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন সময় ও বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন জামাল ভূঁইয়া।

জীবনের কঠিন এক অধ্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন জামাল ভূঁইয়া। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার কৈশোরে ভয়াবহ এক হামলার শিকার হয়েছিলেন। চারটি গুলিতে আহত হয়ে কয়েক দিন কোমায় ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসার পর আবার ফুটবলে ফিরেছেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।

ফিফার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন ৩৬ বছর বয়সী জামাল ভূঁইয়া। জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক আগে কোপেনহেগেনে স্কুলের কাছাকাছি অবস্থান করার সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

জামাল বলেন, সেদিন পিঠে ব্যাকপ্যাক নিয়ে স্কুলের কাছে ছিলেন তিনি। হঠাৎ একজন দৌড়ে এসে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলির শব্দ শোনেন এবং তাঁর শরীরে চারটি গুলি লাগে।

এরপর তিন দিন কোমায় ছিলেন জামাল। সুস্থ হয়ে উঠতে হাসপাতালে আরও কয়েক মাস থাকতে হয় তাঁকে। ওই সময় তিনি ডেনমার্কের এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে খেলতেন এবং ফুটবলে ভালো সময় কাটাচ্ছিলেন।

কোমা থেকে জ্ঞান ফেরার পরও ফুটবল ম্যাচের চিন্তা মাথা থেকে যায়নি জামালের। তিনি নার্সকে পরদিনের ম্যাচে খেলতে পারবেন না—এ কথা কোচকে জানাতে বলেছিলেন। পরে নার্স তাঁকে জানান, তিনি যে দিনটি ভাবছেন, বাস্তবে তার চেয়ে কয়েক দিন এগিয়ে গেছে। তখনই জামাল বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে বড় ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জামাল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হন। ডেনমার্কের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও আর্জেন্টিনার ক্লাব ফুটবলেও খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে ৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই মিডফিল্ডার।

জাতীয় দলের ডাক পেলে সবসময় সাড়া দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জামাল। বয়স বাড়লেও এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি।

ফিফাকে জামাল বলেন, প্রতিটি কিছুরই একসময় শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে তাঁর শরীর ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রতি তাঁর বিশেষ টান রয়েছে। যতদিন শরীর সায় দেবে, ততদিন দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের বড় স্বপ্নের কথাও জানিয়েছেন জামাল। তাঁর বিশ্বাস, একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলতে পারে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেশের ফুটবলে আরও উন্নতি, শক্তিশালী ঘরোয়া লিগ এবং আরও বেশি খেলোয়াড়ের বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ফিফার নতুন আসিয়ান কাপেও ভালো করার প্রত্যাশা বাংলাদেশের। গ্রুপে তুলনামূলক নিচের র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো ফল করার লক্ষ্য রয়েছে দলের। জামালের মতে, ৩ থেকে ৪ পয়েন্ট অর্জন করা একটি লক্ষ্য হতে পারে; তবে ফুটবলে ম্যাচের ফল আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।

বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিনের পথচলায় জামাল এখন অভিজ্ঞতার অন্যতম ভরসা। কঠিন অতীত পেরিয়ে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি দেশের ফুটবল নিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্নও তিনি প্রকাশ্যে ধরে রেখেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

কোমা থেকে ফুটবলের মঞ্চে জামাল ভূঁইয়া, এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

প্রকাশের সময়ঃ ১১:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের কঠিন এক অধ্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন জামাল ভূঁইয়া। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার কৈশোরে ভয়াবহ এক হামলার শিকার হয়েছিলেন। চারটি গুলিতে আহত হয়ে কয়েক দিন কোমায় ছিলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসার পর আবার ফুটবলে ফিরেছেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।

ফিফার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন ৩৬ বছর বয়সী জামাল ভূঁইয়া। জানিয়েছেন, প্রায় দুই দশক আগে কোপেনহেগেনে স্কুলের কাছাকাছি অবস্থান করার সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

জামাল বলেন, সেদিন পিঠে ব্যাকপ্যাক নিয়ে স্কুলের কাছে ছিলেন তিনি। হঠাৎ একজন দৌড়ে এসে তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলির শব্দ শোনেন এবং তাঁর শরীরে চারটি গুলি লাগে।

এরপর তিন দিন কোমায় ছিলেন জামাল। সুস্থ হয়ে উঠতে হাসপাতালে আরও কয়েক মাস থাকতে হয় তাঁকে। ওই সময় তিনি ডেনমার্কের এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে খেলতেন এবং ফুটবলে ভালো সময় কাটাচ্ছিলেন।

কোমা থেকে জ্ঞান ফেরার পরও ফুটবল ম্যাচের চিন্তা মাথা থেকে যায়নি জামালের। তিনি নার্সকে পরদিনের ম্যাচে খেলতে পারবেন না—এ কথা কোচকে জানাতে বলেছিলেন। পরে নার্স তাঁকে জানান, তিনি যে দিনটি ভাবছেন, বাস্তবে তার চেয়ে কয়েক দিন এগিয়ে গেছে। তখনই জামাল বুঝতে পারেন, তাঁর সঙ্গে বড় ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জামাল শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হন। ডেনমার্কের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও আর্জেন্টিনার ক্লাব ফুটবলেও খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ইতোমধ্যে ৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই মিডফিল্ডার।

জাতীয় দলের ডাক পেলে সবসময় সাড়া দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জামাল। বয়স বাড়লেও এখনই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি।

ফিফাকে জামাল বলেন, প্রতিটি কিছুরই একসময় শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে তাঁর শরীর ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রতি তাঁর বিশেষ টান রয়েছে। যতদিন শরীর সায় দেবে, ততদিন দেশের হয়ে খেলার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের বড় স্বপ্নের কথাও জানিয়েছেন জামাল। তাঁর বিশ্বাস, একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলতে পারে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেশের ফুটবলে আরও উন্নতি, শক্তিশালী ঘরোয়া লিগ এবং আরও বেশি খেলোয়াড়ের বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ফিফার নতুন আসিয়ান কাপেও ভালো করার প্রত্যাশা বাংলাদেশের। গ্রুপে তুলনামূলক নিচের র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো ফল করার লক্ষ্য রয়েছে দলের। জামালের মতে, ৩ থেকে ৪ পয়েন্ট অর্জন করা একটি লক্ষ্য হতে পারে; তবে ফুটবলে ম্যাচের ফল আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।

বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিনের পথচলায় জামাল এখন অভিজ্ঞতার অন্যতম ভরসা। কঠিন অতীত পেরিয়ে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি দেশের ফুটবল নিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্নও তিনি প্রকাশ্যে ধরে রেখেছেন।