ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৩০ বছরের চিকিৎসক আঁচল রায়ের

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৫২ Time View

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।

ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএসের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি এফসিপিএস মিডটার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সম্প্রতি এমআরসিপি (ইউকে) পরীক্ষার পার্ট ওয়ানও পাস করেন তিনি।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন আঁচল। পরদিন তাঁর ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। এর মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জানান, প্রায় পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তাঁর স্ত্রী। অসুস্থতার প্রথম দুই দিনও তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথমে তাঁকে কেবিনে রাখা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে প্লাজমা লিকেজ ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস, গুরুতর লিভার জটিলতা এবং একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আঁচলের এক ব্যাচ জুনিয়র সহকর্মী জানান, তিনি নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৪২তম বিসিএসে যোগ দেওয়ার পর প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল নিউরোলজি বিভাগে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে শ্বাসতন্ত্র চিকিৎসা বিভাগেও সংযুক্ত করা হয়। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন।

আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (নিপোর্ট) কর্মরত। আঁচলের পূর্বপুরুষের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকায়।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ কালীমন্দিরের শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৩০ বছরের চিকিৎসক আঁচল রায়ের

প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর।

ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএসের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি এফসিপিএস মিডটার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সম্প্রতি এমআরসিপি (ইউকে) পরীক্ষার পার্ট ওয়ানও পাস করেন তিনি।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন আঁচল। পরদিন তাঁর ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। এর মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জানান, প্রায় পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তাঁর স্ত্রী। অসুস্থতার প্রথম দুই দিনও তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথমে তাঁকে কেবিনে রাখা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শরীরে প্লাজমা লিকেজ ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের মতো জটিলতা দেখা দেয়। এর সঙ্গে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস, গুরুতর লিভার জটিলতা এবং একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আঁচলের এক ব্যাচ জুনিয়র সহকর্মী জানান, তিনি নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৪২তম বিসিএসে যোগ দেওয়ার পর প্রথমে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল নিউরোলজি বিভাগে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে শ্বাসতন্ত্র চিকিৎসা বিভাগেও সংযুক্ত করা হয়। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন।

আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (নিপোর্ট) কর্মরত। আঁচলের পূর্বপুরুষের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকায়।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ কালীমন্দিরের শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।