
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বারিয়াপুর এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশে জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ এবং নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দ্বারিয়াপুর এলাকায় অবস্থিত র্যাব-৫-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিম-০৪-এর উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রমে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা। এ সময় বাড়িঘরের আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ দূর করতে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসাঃ তানজিলা খাতুন, মোঃ এ্যানি খাতুন ও মোসাঃ খুসি আরা খাতুন অভিযানে অংশ নেন।
র্যাব-৫-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সিনিয়র ডিএডি মোঃ ইমদাদুল হক, এএসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ নূর আলমসহ ক্যাম্পের সদস্যরা এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।
পৌরসভার পক্ষ থেকে অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
বাড়ির আঙিনা থেকে ছাদ—যেখানে জমে পানি, সেখানেই মশার ঝুঁকি
সংশ্লিষ্টরা জানান, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, প্লাস্টিকের কৌটা, ডাবের খোসা এবং নির্মাণসামগ্রীর বিভিন্ন অংশে জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাসাবাড়ির পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, দোকানপাটের আশপাশ এবং খোলা স্থানে পড়ে থাকা বিভিন্ন পাত্রেও এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে শুধু মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, নাগরিকদের প্রতি আহ্বান
অভিযান চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এমন বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
নাগরিকদের নিজেদের বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, বাগান ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ এবং যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার করে উল্টে রাখা বা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, ক্যান, বোতল, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পাত্র সরিয়ে ফেলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির চারপাশ পরিদর্শনের পরামর্শ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির ভেতর ও বাইরের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র ও আশপাশের খোলা জায়গা ভালোভাবে পরীক্ষা করে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সামান্য পরিমাণ জমে থাকা পানিও এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানানো হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা ও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সমন্বয় জরুরি। পৌরসভার নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার এ ধরনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও নির্মূলের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডেঙ্গু প্রতিরোধকে কেবল মৌসুমি কার্যক্রম হিসেবে না দেখে বছরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ 




















