
ফরিদপুরে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রায় চার বছর আগে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় পিবিআইয়ের ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি ছিনতাইকারী চক্র ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২০০ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে।
ইজিবাইকটি ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে চক্রের সদস্যরা রুমালের মাধ্যমে চেতনানাশক প্রয়োগ করে চালক বিশ্বনাথ সরকারকে অজ্ঞান করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।
স্থানীয় লোকজন বিশ্বনাথকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পরদিন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা ও ছিনতাইয়ের মামলা করেন।
পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের হুটের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালানো হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় একে একে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাতে ফরিদপুর শহরের ফলপট্টি এলাকা থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে পাঠানো হলে তিনি চালককে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মুরাদ শেখ ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে। এর আগে গ্যারেজের মালিক কামাল ও সুমন আহমেদ নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 

















