
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। রিসোর্টটিতে অগ্নিনিরাপত্তার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশগত ছাড়পত্রও ছিল না বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, গত জুন মাসে রিসোর্টটিকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, সমুদ্র উপকূলের তীব্র বাতাসে কাঠের তৈরি স্থাপনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত ব্যবস্থা, হোস পাইপ এবং অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু টুপটুপ রিসোর্টে এসব ব্যবস্থার কোনোটিই ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না।
ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রিসোর্টটি মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। এর জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ ছিল। রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরির কাজ চলত বলেও জানান তিনি।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানিয়েছেন, ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তাঁর ধারণা, প্রতিষ্ঠানটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনও করেনি।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০, আহত ৬
শনিবার সকালে টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রিসোর্টটিতে মোট ১৮ জন পর্যটক ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চলছিল।
এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামী, ফারিহা কবির (৩৩) এবং শিশু ফাইয়াজ আহম্মেদ (৫)।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিসা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়ে ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। তবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক নিশ্চিত করা যাবে।
ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই রিসোর্টটি পরিচালিত হওয়ার তথ্য সামনে আসায় অগ্নিকাণ্ডের পর প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অধিকার ডেস্কঃ 
















