
দুটি বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে অক্ষত বেঁচে যাওয়া ফ্রান্সের একটি ঐতিহাসিক ভবন এবার পুড়ে গেল সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়েছে মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরের শতবর্ষী সিটি হল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শত শত মুখোশধারী ব্যক্তি একযোগে সিটি হলে হামলা চালান এবং ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ভবনের ছাদে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘড়িসংবলিত ঐতিহ্যবাহী টাওয়ারটিও ধসে পড়ে। এই দৃশ্য অনেককে ২০১৯ সালে প্যারিসের নটরডেম ক্যাথেড্রালের চূড়া ধসে পড়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
রোববার সকালে আগুন নিভে যাওয়ার পর ধ্বংসাবশেষ দেখতে ভিড় করেন নগরবাসী। অনেকেই ক্ষোভ ও বিষাদ প্রকাশ করেন।
লিমোজের বাসিন্দা ফ্রাঁসোয়া ফোরি বলেন, আজ থেকে এক মাস পর তার নাতনির বাপ্তিস্ম অনুষ্ঠান এই সিটি হলে হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, চোখের সামনে নটরডেমের মতো সিটি হলটিও শেষ হয়ে যেতে দেখলাম। কারও দাবি বা ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই।
১৮৮
৩ সালে চালু হওয়া এবং প্যারিসের সিটি হলের আদলে নির্মিত ঊনবিংশ শতাব্দীর এই নিও-রেনেসাঁ স্থাপত্যটি লিমোজের অন্যতম সংরক্ষিত জাতীয় ঐতিহ্য। ৪৩ মিটার (১৪১ ফুট) উঁচু কেন্দ্রীয় ঘড়ি টাওয়ারটি ছিল পুরো শহরের অন্যতম নান্দনিক আকর্ষণ।
লিমোজের স্থানীয় প্রিফেক্ট মরিস ব্যারেট এ ঘটনাকে দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহ্যগত বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আগুনে পুরো ছাদ ও ভেতরের বেশিরভাগ অংশ ধসে পড়েছে এবং বাইরের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেবল ভবনের পশ্চিম অংশ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গিলবার্ট বলেন, সিটি হলে আগুন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, এই ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় রাষ্ট্রের নয়, দায়ীদেরই বহন করা উচিত।
শহরের মেয়র গুইলোম গুয়েরিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শত শত সহিংস বিক্ষোভকারী ধারালো অস্ত্র ও ভারী বস্তু দিয়ে ভবনের মূল দরজা ও জানালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। সে সময় তাদের মোকাবিলার মতো পর্যাপ্ত পুলিশ সেখানে ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। মেয়রের অভিযোগ, মূল বিক্ষোভ সামলাতে জাতীয় পুলিশ বাহিনীকে অন্যত্র মোতায়েন রাখায় সিটি হল পাহারায় তার কাছে একজন পুলিশ সদস্যও ছিল না। তার দাবি, এই হামলার পেছনে পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ছক ছিল। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন সমর্থন এখনো পাওয়া যায়নি। মেয়র বলেন, দেশের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে।
রৌদ্রোজ্জ্বল রোববারে পোড়া ভবনের সামনে জড়ো হওয়া অবসরপ্রাপ্ত নার্স এডিথ লোরসেন বলেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি গভীর কষ্ট পাচ্ছেন। তবে সহিংসতার জবাব আরও সহিংসতা হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঐতিহাসিক এই স্থাপনা পুড়ে যাওয়ায় ফ্রান্সে চলমান গণবিক্ষোভের ধরন নিয়ে সমালোচনা আরও বেড়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 
























