ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন একই সড়ক একদিনে দুইবার উদ্বোধন, সকালে জামায়াতের এমপি ও বিকেলে বিএনপির সাবেক এমপি ইবিতে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১২ বিভাগের ২৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল ইবিতে প্রয়াত শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম সৈকতের জন্য দোয়া মাহফিল দুই অভিযানে ২৩৪ বোতল বিদেশি মদ ও ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩, জব্দ প্রাইভেট কার বেরোবিতে ক্যারিয়ার-ভার্সের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, সভাপতি লাবণ্য ও সম্পাদক মোবাশ্বির কালিয়াকৈরে বেতন ৩০ হাজারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মেসির গোল ও অ্যাসিস্টে নিউ ইংল্যান্ডকে হারাল ইন্টার মায়ামি আমুসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ শ্রমিক আন্দোলনে জামায়াত-আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

লালনের তিরোধান দিবসে ময়মনসিংহের জয়নুল উদ্যানে বাউল গানের আসর

ময়মনসিংহের জয়নুল উদ্যানে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গানের আসরে সংগীত পরিবেশন করছেন শিল্পীরা।

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও আত্মোপলব্ধির এই চিরন্তন দর্শনের সুরে মুখরিত হয়েছে ময়মনসিংহের জয়নুল উদ্যান। বিশ্বখ্যাত সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গানের আসরে মুগ্ধ হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গানের সুরে সুরে ছড়িয়ে পড়ে লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও সম্প্রীতির বার্তা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বরসংলগ্ন বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে ‘সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ’-এর উদ্যোগে ‘মানুষ ভজলে’ শীর্ষক বাউল গানের আসর শুরু হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে রাত পর্যন্ত।

আসরে এ অঞ্চলের খ্যাতনামা বাউল শিল্পীরা লালনগীতি ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পীদের কণ্ঠে লালনের গান ও দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নগরীর সংস্কৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শিল্পীরা বলেন, বাউল গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি বাংলার লোকজ ঐতিহ্য, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রকাশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এ সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিলে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, লালনের গান শুধু কুষ্টিয়া বা বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের নানা দেশেও এ সংগীত সমাদৃত। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলার বাউল ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছে। তাই এ ঐতিহ্য ধারণ, সংরক্ষণ ও বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে দেশে দেশে, সমাজে ও পরিবারে যে অস্থিরতা ও হিংস্রতার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণে লালনের বাণী অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিষয়টি উপলব্ধি করেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশীয় শুদ্ধ ও সহজাত সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ভবিষ্যতেও সমাজ রূপান্তরের উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও বাউল সংগীতের চর্চা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সাধক ফকির লালন সাঁই ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর ১৭ অক্টোবর তিরোধান দিবস পালন করা হয়। লালনের জীবন, দর্শন ও সংগীত বাংলা সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর গানে জাতপাত, ধর্মীয় বিভেদ ও সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিরোধান দিবসের এ আসরে সংগীত পরিবেশন করেন বাউল আব্দুল জব্বার, বাউল স্বদেশ তালুকদার, বাউল মো. হাফিজ উদ্দিন, বাউল আনোয়ার সরকার, বাউল জুবায়েদ হোসেন, বিল্লাল ফকির, ইমতিয়াজ আহমেদ, সাংবাদিক আওলাদ রুবেল, আনোয়ার হোসেন, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, মো. আকাশসহ অন্য শিল্পীরা।

আয়োজনটি শুধু সংগীতানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং লালনের মানবতাবাদী দর্শনকে নতুন করে উপলব্ধির এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বাউল গানের সুরে জয়নুল উদ্যানের এ আয়োজন মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য ও সম্প্রীতির চর্চাই লালনের দর্শনের মূল শক্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

লালনের তিরোধান দিবসে ময়মনসিংহের জয়নুল উদ্যানে বাউল গানের আসর

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও আত্মোপলব্ধির এই চিরন্তন দর্শনের সুরে মুখরিত হয়েছে ময়মনসিংহের জয়নুল উদ্যান। বিশ্বখ্যাত সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বাউল গানের আসরে মুগ্ধ হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গানের সুরে সুরে ছড়িয়ে পড়ে লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও সম্প্রীতির বার্তা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বরসংলগ্ন বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে ‘সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ’-এর উদ্যোগে ‘মানুষ ভজলে’ শীর্ষক বাউল গানের আসর শুরু হয়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলে রাত পর্যন্ত।

আসরে এ অঞ্চলের খ্যাতনামা বাউল শিল্পীরা লালনগীতি ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পীদের কণ্ঠে লালনের গান ও দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নগরীর সংস্কৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শিল্পীরা বলেন, বাউল গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি বাংলার লোকজ ঐতিহ্য, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য প্রকাশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এ সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দিলে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, লালনের গান শুধু কুষ্টিয়া বা বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের নানা দেশেও এ সংগীত সমাদৃত। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলার বাউল ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছে। তাই এ ঐতিহ্য ধারণ, সংরক্ষণ ও বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে দেশে দেশে, সমাজে ও পরিবারে যে অস্থিরতা ও হিংস্রতার চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণে লালনের বাণী অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিষয়টি উপলব্ধি করেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশীয় শুদ্ধ ও সহজাত সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ভবিষ্যতেও সমাজ রূপান্তরের উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও বাউল সংগীতের চর্চা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সাধক ফকির লালন সাঁই ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর ১৭ অক্টোবর তিরোধান দিবস পালন করা হয়। লালনের জীবন, দর্শন ও সংগীত বাংলা সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর গানে জাতপাত, ধর্মীয় বিভেদ ও সামাজিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিরোধান দিবসের এ আসরে সংগীত পরিবেশন করেন বাউল আব্দুল জব্বার, বাউল স্বদেশ তালুকদার, বাউল মো. হাফিজ উদ্দিন, বাউল আনোয়ার সরকার, বাউল জুবায়েদ হোসেন, বিল্লাল ফকির, ইমতিয়াজ আহমেদ, সাংবাদিক আওলাদ রুবেল, আনোয়ার হোসেন, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, মো. আকাশসহ অন্য শিল্পীরা।

আয়োজনটি শুধু সংগীতানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং লালনের মানবতাবাদী দর্শনকে নতুন করে উপলব্ধির এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বাউল গানের সুরে জয়নুল উদ্যানের এ আয়োজন মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য ও সম্প্রীতির চর্চাই লালনের দর্শনের মূল শক্তি।