
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বৈধ ইজারাকৃত বালুমহালে বাধা দেওয়া, কর্মচারীদের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহালের পরিচালক মইনুল ইসলাম বেকুল। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় ভৈরব বাজার প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে মইনুল ইসলাম বেকুল দাবি করেন, ভৈরব পৌরসভার সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহিনের ছোট ভাই সফিকুল ইসলাম টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়ে বালুমহালের ইজারা পান। এজন্য তিনি ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা ইজারা মূল্য এবং ভ্যাট-ট্যাক্স হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দেন। সরকারি নিয়ম মেনে ভৈরব উপজেলার তিনটি মৌজায় পহেলা বৈশাখ থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়।
তাঁর অভিযোগ, বৈধভাবে কার্যক্রম চললেও ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল নামে এক ব্যক্তি বিনা বিনিয়োগে ব্যবসায় অংশীদারত্ব পেতে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। শেয়ার না পেয়ে তিনি ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ২০ অক্টোবর ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও মাসুদ রানা বাবুসহ একদল লোক লুন্দিয়ার বালুমহালে গিয়ে ড্রেজারে হামলা চালান। এ সময় মহালের কর্মচারী মো. কাকন মিয়াকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্যাশে থাকা ১৬ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
আহত কাকনকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার পর কাকনের ভাই পুণ্য বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও বাবুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আল মামুন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুল হক সুজন অভিযোগ করেন, ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল গণ অধিকার পরিষদ থেকে বহিষ্কৃত। তাঁদের দাবি, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায় করেন। তাঁরা আরও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বক্তারা কাজলসহ জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সুজন, সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আল মামুন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হানিফ মাহমুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুল হক সুজন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মীর রাজন আহমেদ ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজুয়ান উল্লাহ। এ ছাড়া ইজারাদারসহ ভৈরব বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 
















