ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণের সড়যন্ত্র, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন, ডিলারের দোকানে ক্ষোভ ও পুলিশ মোতায়েন ইবির পঞ্চম সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, নিবন্ধন শুরু ৫ নভেম্বর পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষে সফল বেরোবি শিক্ষার্থী আকরাম আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন চীনা নেতা লিউ হাইশিং গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, যান চলাচল বন্ধ সাফে বাংলাদেশের শক্তি স্বীকার করলেন ভারত কোচ নওশাদ ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন তারেক রহমানের গুলের-চুয়েমেনিকে বিশ্রাম, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরছেন ভিনিসিয়ুস

বিদেশমুখী চিকিৎসা কমাতে দেশে উন্নত সেবা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৫:২২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৫৫ Time View

কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে রোগীদের যাওয়া কমাতে দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হয়। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি আস্থার বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। এতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এই প্রবণতা কমাতে দেশেই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়; এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে সম্পর্কিত মহান দায়িত্ব। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, সহজ ভাষায় চিকিৎসার বিষয়গুলো রোগী ও স্বজনদের বুঝিয়ে বলা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। দরিদ্র রোগীদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতাও নিশ্চিত করতে হবে।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা

রাষ্ট্রপতি বলেন, গত ১৭ বছরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। অবকাঠামোর অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। এমনকি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনার ঘটনাও ঘটেছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, জনবান্ধব নীতি, জবাবদিহি এবং সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ সময় দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

স্বাস্থ্য খাতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থের প্রতিটি টাকা কার্যকর, যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রস্তাবিত বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও জনমুখী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

কোলোরেক্টাল রোগে সচেতনতার আহ্বান

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত। লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। এতে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে একটি জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপিত হলে এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

সম্মেলনের সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ সার্জনদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে তরুণ চিকিৎসকেরা উপকৃত হবেন। তাঁদের অর্জিত জ্ঞান দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের (বিএসসিআরএস) পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং তাঁদের সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণের সড়যন্ত্র, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

বিদেশমুখী চিকিৎসা কমাতে দেশে উন্নত সেবা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:২২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে রোগীদের যাওয়া কমাতে দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হয়। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি আস্থার বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। এতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এই প্রবণতা কমাতে দেশেই উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়; এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে সম্পর্কিত মহান দায়িত্ব। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ, সহজ ভাষায় চিকিৎসার বিষয়গুলো রোগী ও স্বজনদের বুঝিয়ে বলা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। দরিদ্র রোগীদের প্রতি বিশেষ সহমর্মিতাও নিশ্চিত করতে হবে।

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা

রাষ্ট্রপতি বলেন, গত ১৭ বছরে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা সমস্যার মুখে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। অবকাঠামোর অভাবে অনেক যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকেছে। এমনকি টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় কর্মী ছাড়াই পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি কেনার ঘটনাও ঘটেছে। চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, জনবান্ধব নীতি, জবাবদিহি এবং সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ সময় দেশের চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

স্বাস্থ্য খাতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থের প্রতিটি টাকা কার্যকর, যথাযথ ও স্বচ্ছভাবে ব্যয় নিশ্চিত করা জরুরি। প্রস্তাবিত বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও জনমুখী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

কোলোরেক্টাল রোগে সচেতনতার আহ্বান

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত। লজ্জা, সংকোচ ও অসচেতনতার কারণে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। এতে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে একটি জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপিত হলে এ বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রপতি।

সম্মেলনের সফলতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ সার্জনদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে তরুণ চিকিৎসকেরা উপকৃত হবেন। তাঁদের অর্জিত জ্ঞান দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের (বিএসসিআরএস) পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং তাঁদের সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।