ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন একই সড়ক একদিনে দুইবার উদ্বোধন, সকালে জামায়াতের এমপি ও বিকেলে বিএনপির সাবেক এমপি ইবিতে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১২ বিভাগের ২৪ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল ইবিতে প্রয়াত শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম সৈকতের জন্য দোয়া মাহফিল দুই অভিযানে ২৩৪ বোতল বিদেশি মদ ও ১০৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩, জব্দ প্রাইভেট কার বেরোবিতে ক্যারিয়ার-ভার্সের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, সভাপতি লাবণ্য ও সম্পাদক মোবাশ্বির কালিয়াকৈরে বেতন ৩০ হাজারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মেসির গোল ও অ্যাসিস্টে নিউ ইংল্যান্ডকে হারাল ইন্টার মায়ামি আমুসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ শ্রমিক আন্দোলনে জামায়াত-আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

চলতি বছরের শেষেই চালু হচ্ছে নির্মাণ শেষ হওয়া পাঁচ শিশু হাসপাতাল

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ১২৪১ Time View

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় থেকে একযোগে পাঁচটি শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

পাঁচ শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারা দেশে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে একযোগে পাঁচটি হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন।

রামেক হাসপাতালে বাড়ছে শয্যা ও আইসিইউ সুবিধা

রামেক হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের ঘাটতি রয়েছে হাসপাতালটিতে। ২০১৩ সালে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়নি। ফলে এখনো মূলত ৫৫০ শয্যার সক্ষমতা নিয়েই হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগের সরকার ১ হাজার ২০০ শয্যার ঘোষণা দিলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেনি। বর্তমান সরকার ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার আইসিইউ সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রামেক হাসপাতালসহ দেশের আরও সাতটি পুরোনো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব হাসপাতালে জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রামেক হাসপাতালের সম্প্রসারণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম সরবরাহ

রাজশাহী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব ও সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পদ্মা নদীর কারণে এ অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি। ফলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে অনেক সময় হাসপাতালে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইসিইউ ভবনের লিফট নিয়ে তদন্ত

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ভবনের লিফট সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অভিযোগ এবং লিফট স্থাপন না হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

পরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করা লিফট যথাযথ ছিল না বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমেও পুনরায় তদন্ত করা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকসহ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই পোশাক কারখানায় ১০২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

চলতি বছরের শেষেই চালু হচ্ছে নির্মাণ শেষ হওয়া পাঁচ শিশু হাসপাতাল

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দেশের পাঁচটি ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল চলতি বছরের শেষ নাগাদ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় থেকে একযোগে পাঁচটি শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রামেক হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

পাঁচ শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারা দেশে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য নতুন পদ সৃষ্টির কাজ শেষ হয়েছে। যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে একযোগে পাঁচটি হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন।

রামেক হাসপাতালে বাড়ছে শয্যা ও আইসিইউ সুবিধা

রামেক হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট প্রসঙ্গে বিশেষ সহকারী বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবলের ঘাটতি রয়েছে হাসপাতালটিতে। ২০১৩ সালে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়ানো হয়নি। ফলে এখনো মূলত ৫৫০ শয্যার সক্ষমতা নিয়েই হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগের সরকার ১ হাজার ২০০ শয্যার ঘোষণা দিলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেনি। বর্তমান সরকার ১ হাজার ২০০ সাধারণ শয্যার পাশাপাশি ১০০ শয্যার আইসিইউ সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রামেক হাসপাতালসহ দেশের আরও সাতটি পুরোনো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব হাসপাতালে জনবল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রামেক হাসপাতালের সম্প্রসারণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম সরবরাহ

রাজশাহী অঞ্চলে সাপের উপদ্রব ও সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পদ্মা নদীর কারণে এ অঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেশি। ফলে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে অনেক সময় হাসপাতালে তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকে না।

খুব অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইসিইউ ভবনের লিফট নিয়ে তদন্ত

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ভবনের লিফট সরবরাহে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতির অভিযোগ এবং লিফট স্থাপন না হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

পরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করা লিফট যথাযথ ছিল না বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমেও পুনরায় তদন্ত করা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকসহ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।