
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দ্বীপের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের শনাক্ত করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও তাহসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। এ কারণে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিনও রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, তাহসিফের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে দ্বীপের পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড আবেদন বাতিলের দাবি জানান। মনিরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী তাহসিফের সঙ্গে দ্বীপের পারিবারিকভাবে ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। তাহসিফের বাবা কখনো দ্বীপকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী আরও বলেন, দ্বীপ শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন। তিনি গণমাধ্যমে বিচার বা ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তাহসিফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্য আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, দ্বীপ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং শুরু থেকেই তদন্তে সহযোগিতা করে আসছেন। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের স্বার্থে তাঁরাও আগ্রহী বলে জানান তিনি।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দ্বীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের বলেন, দ্বীপের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, অপরাধের আলামত নষ্ট করা বা অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা এবং যৌথ দায়বদ্ধতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ জন্য দণ্ডবিধির ২০৩, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগের কথা জানান তিনি।
এদিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে দ্বীপকে আদালতে হাজির করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় তাঁর হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। পরে শুনানির আগে সেগুলো খুলে ফেলা হয়।
রিমান্ডের আদেশের পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় এক স্বজনকে উদ্দেশ করে দ্বীপ বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং।’ তাঁকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করতেও বলেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন শুক্রবার রাতে তাঁকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করার পর দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অধিকার ডেস্কঃ 




















