
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে অপহরণ ও হত্যা মামলার এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এসেছে। দীর্ঘ সাত বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে ‘হত্যার শিকার’ বলে ধরে নিয়ে মামলা করা কিশোরী মোছাঃ আয়েশা খাতুন (বর্তমানে আনুমানিক ২৪) অবশেষে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরোনো মামলার তদন্তে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস নোট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ মে দুপুরে ভোলাহাট উপজেলার আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা খাতুন (তৎকালীন বয়স ১৭) তার পিতার বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায়, মা মোসাঃ আদুরী বেগম বিজ্ঞ আদালতে অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার সিআর মামলা নম্বর ৯৫/২০২৩, ধারা ৩৬৪/৩০২/১০৯ পেনাল কোডে।
পরবর্তীতে মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল হলেও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। এরপর নতুন করে সিআর মামলা নং ১৯৯/২০২৪ দায়ের করা হয়, যা ভোলাহাট থানায় তদন্তাধীন ছিল।
দীর্ঘ তদন্তের এক পর্যায়ে অবশেষে গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকার ভোলাহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে আয়েশা খাতুনকে জীবিত উদ্ধার করে ভোলাহাট থানা পুলিশ। তবে এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে জীবনযাপন করেছেন এবং নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কারা জড়িত-এসব বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃআব্দুল বারিক জানান, ভিকটিমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য মতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার কথা জানালেও কে বা কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিলো বা কার সাথে গিয়েছিলো সে ব্যাপারে কোন তথ্য না দেওয়ায় বিজ্ঞ আদলেতের মাধ্যমেে আয়েশা খাতুন কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য অনুমতির আবেদন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি পেলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান, ওসি আব্দুল বারিক। এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন এটি ‘অলৌকিক প্রত্যাবর্তন’, আবার কেউ মনে করছেন, ঘটনার পেছনে রয়েছে আরও গভীর রহস্য, যা উদঘাটন জরুরি।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে-পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, সাত বছর আগের এই ‘হত্যা রহস্য’ শেষ পর্যন্ত কোন সত্য উন্মোচন করে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 






















