ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

রাজশাহীতে বিএনপি নেতা মোস্তফা মামুনকে ঘিরে অডিও বিতর্ক

রাজশাহী জেলা বিএনপির নেতা গোলাম মোস্তফা মামুনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনকে ঘিরে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। অডিওটিতে এক ব্যবসায়ীর কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপির এই নেতা।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়। তিনি জানান, ব্যবসার বিএসটিআই অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়ার পর ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য অর্থ দিতে বলা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এক লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ঈদ শুভেচ্ছার কথা উল্লেখ করে আরও দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ। সেটি সম্পাদনা (এডিট) করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, এটি তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার একটি অপচেষ্টা।

গোলাম মোস্তফা মামুন সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এর আগে তিনি রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও তাকে ঘিরে কিছু বিতর্কের কথা স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকলেও প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে এসেছেন এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার থেকে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি দৈনিক অধিকার।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হবে।”

এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা আরও বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রাজশাহীতে বিএনপি নেতা মোস্তফা মামুনকে ঘিরে অডিও বিতর্ক

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৪২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনকে ঘিরে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। অডিওটিতে এক ব্যবসায়ীর কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপির এই নেতা।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়। তিনি জানান, ব্যবসার বিএসটিআই অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়ার পর ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য অর্থ দিতে বলা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এক লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ঈদ শুভেচ্ছার কথা উল্লেখ করে আরও দুই লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ। সেটি সম্পাদনা (এডিট) করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, এটি তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার একটি অপচেষ্টা।

গোলাম মোস্তফা মামুন সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এর আগে তিনি রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও তাকে ঘিরে কিছু বিতর্কের কথা স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মূলধারার সাংবাদিকতার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না থাকলেও প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে এসেছেন এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার থেকে নিয়মিত অর্থ দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করতে পারেনি দৈনিক অধিকার।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হবে।”

এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা আরও বাড়বে।