ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে ১৫ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, একজনের বিরুদ্ধে মামলা টানা বর্ষণে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি লাখো মানুষ আগামী সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে- আইনমন্ত্রী চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি সরোয়ার আলমগীরের শপথ গ্রহণ ইবির লালন শাহ হলের নতুন প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ২৫ দিনে বিচার, ৯ দিনে চার্জশিট: নিছামনি ধর্ষণ-হত্যা উজিরপুরের ৮৩ বছরের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মানবেতর দাপ্তরিক পরিবেশ মাগুরায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান বেরোবিতে ‘আবদুল হাই শিকদার কর্নার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
মাথায় পলিথিন, চারপাশে বৃষ্টির পানি

উজিরপুরের ৮৩ বছরের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মানবেতর দাপ্তরিক পরিবেশ

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অফিস কক্ষে বৃষ্টির পানি থেকে নথিপত্র রক্ষায় পলিথিন ব্যবহার করছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষাঙ্গন হওয়া উচিত নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব। কিন্তু বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র যেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। বর্ষাকাল এলেই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের টিনের ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি। ফলে ভিজে যায় অফিসের টেবিল-চেয়ার, আলমারি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এমন পরিস্থিতিতে নথিপত্র ও নিজেদের রক্ষা করতে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে মাথায় পলিথিন দিয়ে অফিসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৮৩ বছরের ইতিহাস বহন করলেও আজও এর অফিস কক্ষের জন্য একটি স্থায়ী পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। পুরোনো টিনের ছাউনি ও জরাজীর্ণ কাঠামোর কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো কক্ষ পানিতে ভরে যায়। এতে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে না, শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে অফিস কক্ষটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সরাসরি কক্ষে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, রেজিস্টার, নথি ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেক সময় মাথায় পলিথিন ব্যবহার করে অফিসের কাজ করতে হয়। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও নানা কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিবেশে শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন যেমন কঠিন হয়ে উঠছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ অবগত রয়েছে। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা জানান, স্থায়ী সমাধানের আগে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষকদের দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টিকে ঢেউটিন দেওয়া হবে, যাতে আপাতত বৃষ্টির পানি থেকে অফিস কক্ষকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া যায়।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষকদের মাথায় পলিথিন দিয়ে অফিস করতে হওয়া শুধু একটি বিদ্যালয়ের সমস্যা নয়, এটি শিক্ষা অবকাঠামোর বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই অফিস ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু পাঠ্যপুস্তক বা শিক্ষকই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিরাপদ অবকাঠামো, সুষ্ঠু প্রশাসনিক পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকটের অবসান ঘটবে।


জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে ১৫ লিটার চোলাইমদ উদ্ধার, একজনের বিরুদ্ধে মামলা

মাথায় পলিথিন, চারপাশে বৃষ্টির পানি

উজিরপুরের ৮৩ বছরের বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মানবেতর দাপ্তরিক পরিবেশ

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

শিক্ষাঙ্গন হওয়া উচিত নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব। কিন্তু বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র যেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। বর্ষাকাল এলেই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের টিনের ছাদ দিয়ে চুইয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি। ফলে ভিজে যায় অফিসের টেবিল-চেয়ার, আলমারি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এমন পরিস্থিতিতে নথিপত্র ও নিজেদের রক্ষা করতে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে মাথায় পলিথিন দিয়ে অফিসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৮৩ বছরের ইতিহাস বহন করলেও আজও এর অফিস কক্ষের জন্য একটি স্থায়ী পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। পুরোনো টিনের ছাউনি ও জরাজীর্ণ কাঠামোর কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো কক্ষ পানিতে ভরে যায়। এতে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে না, শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে অফিস কক্ষটি স্থায়ীভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সরাসরি কক্ষে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, রেজিস্টার, নথি ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অনেক সময় মাথায় পলিথিন ব্যবহার করে অফিসের কাজ করতে হয়। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও নানা কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিবেশে শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন যেমন কঠিন হয়ে উঠছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ অবগত রয়েছে। প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা জানান, স্থায়ী সমাধানের আগে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষকদের দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টিকে ঢেউটিন দেওয়া হবে, যাতে আপাতত বৃষ্টির পানি থেকে অফিস কক্ষকে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়া যায়।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষকদের মাথায় পলিথিন দিয়ে অফিস করতে হওয়া শুধু একটি বিদ্যালয়ের সমস্যা নয়, এটি শিক্ষা অবকাঠামোর বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই অফিস ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু পাঠ্যপুস্তক বা শিক্ষকই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিরাপদ অবকাঠামো, সুষ্ঠু প্রশাসনিক পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকটের অবসান ঘটবে।