
প্রান্তিক মানুষের হাতে তৈরি পণ্যকে নতুন ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একদল শিক্ষার্থী। তাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘কারুকুঞ্জ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও স্থানীয় কারিগরদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ, প্রচার ও বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মুমিনপুর কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন মাটির সামগ্রী ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় কারিগররা তাদের পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাজার ও ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রান্তিক কারিগরদের পণ্য পৌঁছাবে নতুন বাজারে
উদ্যোক্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে তৈরি অসংখ্য পণ্য রয়েছে। তবে যথাযথ প্রচার, বাজারজাতকরণ ও ক্রেতার অভাবে অনেক সময় এসব পণ্য স্থানীয় বাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে কারিগররা তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতার উপযুক্ত মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ‘কারুকুঞ্জ’ সরাসরি কারিগরদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে সেগুলোর প্রচার ও বিক্রির ব্যবস্থা করছে। এর ফলে উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণে গুরুত্ব
কারুকুঞ্জের কার্যক্রমের শুরুতেই গুরুত্ব পেয়েছে রংপুরের মৃৎশিল্প। বদরগঞ্জের মুমিনপুর কুমারপাড়ার কারিগরদের হাতে তৈরি মাটির বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করে সেগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরছেন বেরোবির শিক্ষার্থীরা।
উদ্যোক্তাদের মতে, আধুনিকতার প্রভাবে দেশীয় অনেক ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ধীরে ধীরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এসব পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো গেলে ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রতি আগ্রহও বাড়বে।
শুধু বিক্রি নয়, স্বাবলম্বিতার লক্ষ্য
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘কারুকুঞ্জ’কে শুধু পণ্য বিক্রির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন না তারা। প্রান্তিক মানুষের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়লে কারিগররা আরও বেশি উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে তাদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
বেরোবির শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশীয় পণ্য ও প্রান্তিক কারিগরদের নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। উদ্যোক্তারা মনে করেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হারিয়ে যেতে বসা কারুশিল্প নতুন বাজার খুঁজে পেতে পারে।
‘কারুকুঞ্জ’-এর মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের হাতে তৈরি পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের পরিচিতি বাড়ানোর কাজও এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুবায়ের আল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি: 





















