
ভালোবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা আর সহ্য করতে না পেরে প্রেমিকার বিয়ের দিনই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক আবেগঘন পোস্ট করে বিদায় জানান তিনি। এরপর কয়েক ঘণ্টা পর উপজেলার একটি আমবাগান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (তারিখ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জটিবাড়ি গ্রামের একটি আমবাগান থেকে রাকিব প্রামাণিক (২২) নামে ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই গ্রামের সোহরাব প্রামাণিকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব দীর্ঘদিন ধরে এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের দাবি করে আসছিলেন। তার দাবি ছিল, দুজনই একে অপরকে ভালোবাসতেন। তবে পারিবারিক সিদ্ধান্তে ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্বজন ও এলাকাবাসীর ধারণা।
মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে রাকিব লিখেছিলেন, প্রিয় মানুষটিকে ছাড়া তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তিনি তার ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং নিজের মৃত্যুর জন্য মেয়েটির বাবা-মাকে দায়ী বলে উল্লেখ করেন। ওই পোস্টে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি পোস্টে রাকিব তার বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, কাউকে কিছু না জানিয়েই তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সবার কাছে দোয়া চান। পোস্টের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বিদায় জানান।
বিকেলে স্থানীয়রা আমবাগানের একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় রাকিবকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ফেসবুকে দেওয়া পোস্টগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 





















