ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা নদী দূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব হাসপাতালের জন্য পরিপত্র জারির নির্দেশ- হাইকোর্ট হাফিজুরের জামিন স্থগিত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রেমিকার বিয়ের দিন নিভে গেল এক তরুণের স্বপ্ন- ফেসবুকে শেষ বিদায় গণহত্যার ঘটনায় আ.লীগ প্রত্যক্ষ, ভারত পরোক্ষভাবে দায়ী-রাশেদ প্রধান ‘জুলাই শহীদদের জন্য কী করেছেন?’-ইশরাকের প্রশ্নের জবাবে যা বললেন সারজিস আলম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সাংবাদিকের ওপর বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীর হামলা- প্রতিবাদে মানববন্ধন রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কা, পাওয়ার টিলারচালক যুবকের প্রাণহানি

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমিতে সড়ক নির্মাণসংক্রান্ত কার্যক্রমে দুই মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফাইল ছবি।

কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর দিয়ে প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণসংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কু) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনের মধ্যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থে গত মাসে এ রিট আবেদন দায়ের করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রুলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ এবং তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল, ইতোমধ্যে নির্মিত পাকা অংশ অপসারণ এবং ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর সংরক্ষিত বনভূমি ও এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

রায়ের পর আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা সাংবাদিকদের জানান, পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ভূমিসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বনসংরক্ষক, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেলার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার অংশ মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমির মধ্য দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বনের বুক চিরে সড়ক, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ।

সংস্থাটির দাবি, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের আপত্তি এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। এতে বনাঞ্চলের গাছপালা, পাহাড় এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়।

বেলা আরও জানায়, ১৯৫৪ সালে মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি ১০০ বছরের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৫৭ সালে বন আইনের ২০ ধারার অধীনে এলাকাটি সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের এলাকায় কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমির ভেতর দিয়ে প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণসংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কু) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সংরক্ষিত বনের মধ্যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জনস্বার্থে গত মাসে এ রিট আবেদন দায়ের করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন বেলার আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রুলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ এবং তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল, ইতোমধ্যে নির্মিত পাকা অংশ অপসারণ এবং ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর সংরক্ষিত বনভূমি ও এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

রায়ের পর আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা সাংবাদিকদের জানান, পরিবেশ সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ভূমিসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বনসংরক্ষক, চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেলার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪ দশমিক ৮৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার অংশ মহেশখালীর সংরক্ষিত বনভূমির মধ্য দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

বনের বুক চিরে সড়ক, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ।

সংস্থাটির দাবি, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের আপত্তি এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। এতে বনাঞ্চলের গাছপালা, পাহাড় এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়।

বেলা আরও জানায়, ১৯৫৪ সালে মহেশখালীর ১২ নম্বর পাহাড় মৌজার ১৮ হাজার ২৮৬ দশমিক ৪০ একর ভূমি ১০০ বছরের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৫৭ সালে বন আইনের ২০ ধারার অধীনে এলাকাটি সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের এলাকায় কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় না।