ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
নারী যাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড নোবিপ্রবি অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারকে ‘বড় অঘটন’ বলছেন সাবেক ক্রিকেটাররা উপসচিব পদে ২৭৭ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিল সরকার বাবা হলেন গায়ক অনুপম রায়, পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন প্রস্মিতা নতুন পে-স্কেল এ বছরেই ঘোষণা, বাস্তবায়নও চলতি বছরে: অর্থমন্ত্রী ভাঙ্গায় মসজিদের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ আমানত বিমানবন্দরে সাড়ে ৫ কোটি টাকার সিগারেট-আইফোন জব্দ ১৮০ দিনে সরকারের নানা অর্জনের দাবি, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

উত্তাল সাগরে মাঝপথে জ্বালানি শেষ, অচল স্পিডবোটে আতঙ্কে ৮ যাত্রী

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৭:২৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৪৯ Time View

উত্তাল সাগরে মাঝপথে জ্বালানি শেষ হয়ে অচল হয়ে পড়ে যাত্রীবাহী স্পিডবোটটি

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে গুপ্তছড়া ঘাট হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট মাঝসমুদ্রে জ্বালানি ফুরিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এ সময় সাগর ছিল উত্তাল। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢেউয়ের মধ্যে স্পিডবোটটি দীর্ঘ সময় ভাসতে থাকে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ৮ যাত্রী। পরে ভাসতে ভাসতে সীতাকুণ্ড উপকূলের ম্যানগ্রোভ বনের কাছে গিয়ে স্পিডবোটটি থামলে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের মধ্যে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হয় রোববার।

জানা গেছে, আদালতে হাজিরা ও চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য আটজন যাত্রী শনিবার সকাল ১০টার দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে যান। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌপথে চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনের কারণে তারা ৩ হাজার ২০০ টাকায় ১০ আসনের একটি স্পিডবোট ভাড়া করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় বড় ঢেউ ও তীব্র স্রোতের মধ্য দিয়েই এগোচ্ছিল স্পিডবোটটি। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চালক ও সহযোগীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সেটি সচল করতে পারেননি। একপর্যায়ে যাত্রীদের জানানো হয়, স্পিডবোটটির জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে।

এতে মাঝসমুদ্রে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তাল ঢেউয়ের কারণে যেকোনো সময় নৌযানটি বিপদে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

স্পিডবোটের যাত্রী নূর হোসেন (২৮) বলেন, জরুরি কাজ থাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা যাত্রা করেছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে চালক ও সহযোগীরা প্রথমে ইঞ্জিন ঠিক করার চেষ্টা করেন। পরে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। মাঝসাগরে নৌযানটি থেমে যাওয়ার পর বড় ঢেউয়ের মধ্যে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্পিডবোটটি তীরের দিকে গিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের কাছে আটকে যায়।

যাত্রীরা জানান, ঘটনার পরও তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। মাঝসমুদ্রে দীর্ঘ সময় নৌযান অচল হয়ে থাকার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সমুদ্রবন্দরে আবহাওয়া বিভাগও সতর্কসংকেত জারি করেছিল।

বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার বেশি সতর্কসংকেত জারি হলে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শনিবারও এমন নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই স্পিডবোটটি সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি বড় ধরনের বিপদে পরিণত হতে পারত। স্পিডবোটটির রুট পারমিট ছিল কি না এবং অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌযান পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি ছাড়া যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী যাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

উত্তাল সাগরে মাঝপথে জ্বালানি শেষ, অচল স্পিডবোটে আতঙ্কে ৮ যাত্রী

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:২৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে গুপ্তছড়া ঘাট হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট মাঝসমুদ্রে জ্বালানি ফুরিয়ে অচল হয়ে পড়ে। এ সময় সাগর ছিল উত্তাল। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢেউয়ের মধ্যে স্পিডবোটটি দীর্ঘ সময় ভাসতে থাকে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ৮ যাত্রী। পরে ভাসতে ভাসতে সীতাকুণ্ড উপকূলের ম্যানগ্রোভ বনের কাছে গিয়ে স্পিডবোটটি থামলে স্বস্তি ফেরে যাত্রীদের মধ্যে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হয় রোববার।

জানা গেছে, আদালতে হাজিরা ও চিকিৎসাসহ জরুরি কাজে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য আটজন যাত্রী শনিবার সকাল ১০টার দিকে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে যান। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌপথে চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনের কারণে তারা ৩ হাজার ২০০ টাকায় ১০ আসনের একটি স্পিডবোট ভাড়া করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় বড় ঢেউ ও তীব্র স্রোতের মধ্য দিয়েই এগোচ্ছিল স্পিডবোটটি। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চালক ও সহযোগীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও সেটি সচল করতে পারেননি। একপর্যায়ে যাত্রীদের জানানো হয়, স্পিডবোটটির জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে।

এতে মাঝসমুদ্রে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তাল ঢেউয়ের কারণে যেকোনো সময় নৌযানটি বিপদে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

স্পিডবোটের যাত্রী নূর হোসেন (২৮) বলেন, জরুরি কাজ থাকায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা যাত্রা করেছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর স্পিডবোট বন্ধ হয়ে গেলে চালক ও সহযোগীরা প্রথমে ইঞ্জিন ঠিক করার চেষ্টা করেন। পরে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়। মাঝসাগরে নৌযানটি থেমে যাওয়ার পর বড় ঢেউয়ের মধ্যে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্পিডবোটটি তীরের দিকে গিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের কাছে আটকে যায়।

যাত্রীরা জানান, ঘটনার পরও তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। মাঝসমুদ্রে দীর্ঘ সময় নৌযান অচল হয়ে থাকার অভিজ্ঞতা তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সমুদ্রবন্দরে আবহাওয়া বিভাগও সতর্কসংকেত জারি করেছিল।

বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার বেশি সতর্কসংকেত জারি হলে বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। শনিবারও এমন নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই স্পিডবোটটি সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি বড় ধরনের বিপদে পরিণত হতে পারত। স্পিডবোটটির রুট পারমিট ছিল কি না এবং অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌযান পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি ছাড়া যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে