ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বাসের ৩ যাত্রী নিহত, আহত ৮ বেরোবিতে যৌন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আলোচনা সভা পরিত্যক্ত ভবনে র‍্যাবের অভিযান- মিলল বিদেশি রিভলবারসহ দেশীয় অস্ত্র সাড়ে ৫ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু খুলে দেওয়া হলো পুলিশ-সাংবাদিক পরিচয়ে বাসায় ঢুকে চাঁদা দাবি, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ২ ডুমুরিয়ায় উপজেলা কমপ্লেক্সের পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দুর্নীতির মামলায় সাবেক স্বাস্থ্য ডিজিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য ৪ অক্টোবর তনু হত্যা: দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ গাইবান্ধায় ঘর মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কাঠমিস্ত্রির মৃত্যু

‘আমি শুধু ছেলের লাশটা একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চাই’

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৫০ Time View

রাশিয়ায় দুর্ঘটনায় নিহত জাকির হোসেনের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি।

‘অভাব ঘোচাতে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, এখন চার বছরের নাতনিকে কী বলে সান্ত্বনা দেব? আমি শুধু চাই, আমার ছেলের মরদেহটা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাশিয়ায় দুর্ঘটনায় নিহত জাকির হোসেনের মা রোকেয়া বেগম। শুক্রবার তিনি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বড় বাড়ির প্রয়াত রতন মিয়ার বড় ছেলে। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানো ও ঋণ পরিশোধের আশায় প্রায় দেড় বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে সম্প্রতি একটি কোম্পানিতে সুপারভাইজার পদে উন্নীত হয়েছিলেন। তবে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আগেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

জাকিরের মৃত্যুর খবরে ভৈরবে তাঁর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মা রোকেয়া বেগম ও স্ত্রী রিপা বেগমের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। চার বছরের মেয়ে তায়েবাকে কোলে নিয়ে নির্বাক হয়ে আছেন রিপা।

জাকিরের ছোট ভাই শরীফ মিয়া জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় তাদের বাবা ধারদেনা করে জাকিরকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। প্রায় নয় মাস আগে বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব পুরোপুরি জাকিরের ওপর পড়ে। চার ভাইয়ের মধ্যে আরেকজন কিছুদিন আগে গ্রিসে গেলেও পরিবারের ঋণের বোঝা এখনো রয়েছে।

শরীফ বলেন, গত ২৫ আগস্ট তারা জানতে পারেন জাকির হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাশিয়ায় থাকা তাদের এক চাচাতো ভাইও প্রথমে এমনটাই জানতে পেরেছিলেন। তবে ২৭ আগস্ট তারা নিশ্চিত হন, দুর্ঘটনার দিনই একটি কোম্পানির কক্ষে জাকিরের মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর মরদেহ সেখানেই ছিল।

জাকিরের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। সে বলেছিল, আমাদের সুদিন ফিরবে, সবাই যেন দোয়া করে। কখনো ভাবিনি, এটাই তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হবে। এখন চার বছরের মেয়েকে নিয়ে কীভাবে জীবন চালাব, বুঝতে পারছি না।’

গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন। পরে মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ওই ঘটনায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। নিহত ব্যক্তি ভৈরবের জাকির হোসেন বলে জানা যায়।

এদিকে জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বাসের ৩ যাত্রী নিহত, আহত ৮

‘আমি শুধু ছেলের লাশটা একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চাই’

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

‘অভাব ঘোচাতে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, এখন চার বছরের নাতনিকে কী বলে সান্ত্বনা দেব? আমি শুধু চাই, আমার ছেলের মরদেহটা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাশিয়ায় দুর্ঘটনায় নিহত জাকির হোসেনের মা রোকেয়া বেগম। শুক্রবার তিনি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বড় বাড়ির প্রয়াত রতন মিয়ার বড় ছেলে। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানো ও ঋণ পরিশোধের আশায় প্রায় দেড় বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে সম্প্রতি একটি কোম্পানিতে সুপারভাইজার পদে উন্নীত হয়েছিলেন। তবে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর আগেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

জাকিরের মৃত্যুর খবরে ভৈরবে তাঁর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মা রোকেয়া বেগম ও স্ত্রী রিপা বেগমের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। চার বছরের মেয়ে তায়েবাকে কোলে নিয়ে নির্বাক হয়ে আছেন রিপা।

জাকিরের ছোট ভাই শরীফ মিয়া জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় তাদের বাবা ধারদেনা করে জাকিরকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। প্রায় নয় মাস আগে বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব পুরোপুরি জাকিরের ওপর পড়ে। চার ভাইয়ের মধ্যে আরেকজন কিছুদিন আগে গ্রিসে গেলেও পরিবারের ঋণের বোঝা এখনো রয়েছে।

শরীফ বলেন, গত ২৫ আগস্ট তারা জানতে পারেন জাকির হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাশিয়ায় থাকা তাদের এক চাচাতো ভাইও প্রথমে এমনটাই জানতে পেরেছিলেন। তবে ২৭ আগস্ট তারা নিশ্চিত হন, দুর্ঘটনার দিনই একটি কোম্পানির কক্ষে জাকিরের মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর মরদেহ সেখানেই ছিল।

জাকিরের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। সে বলেছিল, আমাদের সুদিন ফিরবে, সবাই যেন দোয়া করে। কখনো ভাবিনি, এটাই তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হবে। এখন চার বছরের মেয়েকে নিয়ে কীভাবে জীবন চালাব, বুঝতে পারছি না।’

গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন। পরে মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ওই ঘটনায় একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। নিহত ব্যক্তি ভৈরবের জাকির হোসেন বলে জানা যায়।

এদিকে জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ।

তিনি বলেন, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।