
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়ে একটি বাসায় ঢুকে তল্লাশি ও ভিডিও ধারণের পর এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি ও হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম (৫৩) বাদী হয়ে হালিশহর থানায় মামলা করেন।
মামলায় সাখাওয়াত হোসেন (৪০), মো. মাইনউদ্দিন (৪৬), মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) ও বাবুল (৩৬)কে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য তিনজন পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আনোয়ারা বেগম তাঁর দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাসায় ছিলেন। তাঁর স্বামী ও দুই ছেলে কাজে বাইরে ছিলেন। দুপুরে পাঁচ ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে—এমন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান তাঁরা।
একপর্যায়ে আনোয়ারা বেগম ও তাঁর দুই পুত্রবধূর মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন অভিযুক্তরা। এ সময় ওই নারী বাসাটি তাঁর নিজের বলে জানালেও অভিযুক্তরা এক লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তরা বাসায় ভাঙচুর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তাদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। এ সময় প্রতিবেশীদের সঙ্গেও অভিযুক্তরা হুমকিমূলক আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে হালিশহর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঁচ ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মন্ডল বলেন, অভিযুক্তরা প্রথমে নিজেদের পুলিশ এবং পরে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অধিকার ডেস্কঃ 




















