ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি থেকে ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ মামুন খালেদসহ স্ত্রী-শ্যালকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ শাহজাদপুরে নার্সিং ও ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সিলেট সীমান্তে ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনে পার্বতীপুরে পৌঁছাল ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল কক্সবাজারে চোরাই স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ গৃহকর্মী গ্রেপ্তার লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৬৮ বাংলাদেশি

যে সিনেমায় আনোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন বাংলা সিনেমার ‘মুকুটহীন নবাব’ খেতাব

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৪১ Time View

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেন এক উজ্জ্বল নাম। ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’-তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন। এই চরিত্রের অসাধারণ অভিনয়ের জন্যই তিনি পরিচিতি পান বাংলা সিনেমার ‘মুকুটহীন নবাব’ হিসেবে।

২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৮২ বছর বয়সে মারা যান গুণী এই অভিনেতা। আজ তার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে চলচ্চিত্রে তার দীর্ঘ ও বর্ণিল অভিনয়জীবনকে স্মরণ করছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা।

আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মুরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে। বাবা-মায়ের তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি। তার বাবা এ কে এম নাজির হোসেন জেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫১ সালে জামালপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি ময়মনসিংহ কলেজে ভর্তি হন। স্কুলজীবনেই অভিনয়ের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। আসকার ইবনে সাইকের লেখা ‘পদক্ষেপ’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে তার অভিনয়জীবনের সূচনা হয়।

১৯৫৭ সালে ঢাকায় পা রাখেন আনোয়ার হোসেন। কয়েক বছর পর ১৯৬১ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। এরপর সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘সূর্যস্নান’ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৮টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই শিল্পী।

তবে তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হয়ে আসে ১৯৬৭ সালের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’ চলচ্চিত্র। এতে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আনোয়ার হোসেন। সিরাজের দেশপ্রেম, বেদনা ও সংগ্রামের আবেগ তিনি যেভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, তা দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।

এরপর দেশের বহু খ্যাতিমান পরিচালকের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সালাহউদ্দিন, খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, আমজাদ হোসেন, ইবনে মিজান, আলমগীর কবির, কামাল আহমেদ, জহির রায়হান, নারায়ণ ঘোষ মিতা, সুভাষ দত্ত, নজরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, মোস্তফা মেহমুদ, এ জে মিন্টু, চাষী নজরুল ইসলাম ও কাজী হায়াতসহ অনেক পরিচালকের ছবিতে দেখা গেছে তাকে।

আনোয়ার হোসেন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘জয় বাংলা’, ‘অরুণোদ্বয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘লাঠিয়াল’, ‘পালঙ্ক’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘নাজমা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সূর্যসংগ্রাম’, ‘প্রেমের সমাধি’, ‘দায়ী কে’ ও ‘সত্য মিথ্যা’।

প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে আনোয়ার হোসেন প্রায় ৩৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তার অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতিও এসেছে একাধিকবার।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নিগার পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে পান একুশে পদক। এছাড়া দুবার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দেওয়া আনোয়ার হোসেন আজও দর্শকদের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অনন্য নাম। বিশেষ করে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’ চরিত্রে তার অভিনয় বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি থেকে ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

যে সিনেমায় আনোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন বাংলা সিনেমার ‘মুকুটহীন নবাব’ খেতাব

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেন এক উজ্জ্বল নাম। ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’-তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন। এই চরিত্রের অসাধারণ অভিনয়ের জন্যই তিনি পরিচিতি পান বাংলা সিনেমার ‘মুকুটহীন নবাব’ হিসেবে।

২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৮২ বছর বয়সে মারা যান গুণী এই অভিনেতা। আজ তার ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে চলচ্চিত্রে তার দীর্ঘ ও বর্ণিল অভিনয়জীবনকে স্মরণ করছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা।

আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার মুরুলিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে। বাবা-মায়ের তৃতীয় সন্তান ছিলেন তিনি। তার বাবা এ কে এম নাজির হোসেন জেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৫১ সালে জামালপুর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি ময়মনসিংহ কলেজে ভর্তি হন। স্কুলজীবনেই অভিনয়ের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। আসকার ইবনে সাইকের লেখা ‘পদক্ষেপ’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে তার অভিনয়জীবনের সূচনা হয়।

১৯৫৭ সালে ঢাকায় পা রাখেন আনোয়ার হোসেন। কয়েক বছর পর ১৯৬১ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। এরপর সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘সূর্যস্নান’ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৮টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই শিল্পী।

তবে তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হয়ে আসে ১৯৬৭ সালের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’ চলচ্চিত্র। এতে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আনোয়ার হোসেন। সিরাজের দেশপ্রেম, বেদনা ও সংগ্রামের আবেগ তিনি যেভাবে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন, তা দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।

এরপর দেশের বহু খ্যাতিমান পরিচালকের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সালাহউদ্দিন, খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, আমজাদ হোসেন, ইবনে মিজান, আলমগীর কবির, কামাল আহমেদ, জহির রায়হান, নারায়ণ ঘোষ মিতা, সুভাষ দত্ত, নজরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, মোস্তফা মেহমুদ, এ জে মিন্টু, চাষী নজরুল ইসলাম ও কাজী হায়াতসহ অনেক পরিচালকের ছবিতে দেখা গেছে তাকে।

আনোয়ার হোসেন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘জয় বাংলা’, ‘অরুণোদ্বয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘লাঠিয়াল’, ‘পালঙ্ক’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘নাজমা’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সূর্যসংগ্রাম’, ‘প্রেমের সমাধি’, ‘দায়ী কে’ ও ‘সত্য মিথ্যা’।

প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে আনোয়ার হোসেন প্রায় ৩৫০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তার অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতিও এসেছে একাধিকবার।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নিগার পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে পান একুশে পদক। এছাড়া দুবার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দেওয়া আনোয়ার হোসেন আজও দর্শকদের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অনন্য নাম। বিশেষ করে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌল্লাহ’ চরিত্রে তার অভিনয় বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।