ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

গভীর নলকূপে ট্র্যাজেডির পর সাজিদের শেষ বিদায়ে মানুষের স্রোত

গভীর নলকূপে ট্র্যাজেডির পর সাজিদের শেষ বিদায়ে মানুষের স্রোত-কান্নায় ভেঙে পড়ল কোয়েলহাট গ্রামবাসী।

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে প্রাণহারা দুই বছরের শিশু সাজিদকে শেষ বিদায় জানাতে শুক্রবার সকাল থেকেই গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কোয়েলহাট পূর্বপাড়ার আকাশজুড়ে নেমে আসে নাও বোঝা এক শোকের ছায়া। মসজিদের মাইকে মর্মান্তিক ঘোষণার পর থেকেই গ্রামের মানুষ হেঁটে, দৌঁড়ে, ছুটে চলে আসে সাজিদের বাড়ির দিকে-আরেকবার দেখতে সেই নিষ্পাপ মুখটি, যে মুখে প্রতিদিন ছিল হাসির ঝিলিক, আজ যা নিথর।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেককিড়ি কবরস্থানের সামনের বিশাল মাঠে জানাজার আগেই মানুষের ঢল নামে। শিশু থেকে বৃদ্ধ-সবার চোখে টলমল জল, সবার মুখে একই আর্তনাদ-“আল্লাহ, এমন মৃত্যু কারও ঘরে না দিও।” সাদা কাপড়ে মোড়ানো সাজিদের ছোট্ট দেহটি জানাজা ময়দানে আনা মাত্র কান্নায় ভেঙে পড়ে চারদিক। শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিশুটির মা-বারবার ছুটে যেতে চাইছিলেন ছেলের দিকে। স্বজনরা ধরে রাখলেও থামাতে পারেননি তার বুকফাটা আর্তনাদ।

জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। নামাজ শেষে যখন তাকবির ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে, তখন হাজারো হাত দোয়ার ভঙ্গিতে এক হয়ে যায়-সাজিদের মাগফিরাতের জন্য, তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য আল্লাহর রহমত ও ধৈর্যের প্রার্থনা করে।

জানাজার পর যখন সাজিদের ছোট্ট কফিনটি কবরের দিকে নেওয়া হয়, মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। বাতাস পর্যন্ত নিস্তব্ধ-শুধু শোনা যাচ্ছিল কান্নার শব্দ। স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব-কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। এক শিশুর জানাজায় পুরো গ্রামের এমন সমবেদনার দৃশ্য আগে কখনও দেখেনি কোয়েলহাট পূর্বপাড়া।

মর্মান্তিক এই ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খেলতে খেলতে সাজিদ গভীর নলকূপের ৪০ ফুট নিচের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অবিরাম প্রচেষ্টায় ৩২ ঘণ্টা মাটি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু প্রাণ ছিল না-তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এক গ্রামের বুক চিরে যাওয়া এই মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দিল-একটি শিশুর জীবন কত মূল্যবান, আর অবহেলার ছোট ভুল কত বড় শোক বয়ে আনতে পারে। কোয়েলহাট গ্রাম এখনও কাঁদছে সাজিদের জন্য; কাঁদছে এক টুকরো নিষ্পাপ হাসি হারানোর বেদনায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

গভীর নলকূপে ট্র্যাজেডির পর সাজিদের শেষ বিদায়ে মানুষের স্রোত

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:৫৭:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

গভীর নলকূপে ট্র্যাজেডির পর সাজিদের শেষ বিদায়ে মানুষের স্রোত-কান্নায় ভেঙে পড়ল কোয়েলহাট গ্রামবাসী।

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে প্রাণহারা দুই বছরের শিশু সাজিদকে শেষ বিদায় জানাতে শুক্রবার সকাল থেকেই গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কোয়েলহাট পূর্বপাড়ার আকাশজুড়ে নেমে আসে নাও বোঝা এক শোকের ছায়া। মসজিদের মাইকে মর্মান্তিক ঘোষণার পর থেকেই গ্রামের মানুষ হেঁটে, দৌঁড়ে, ছুটে চলে আসে সাজিদের বাড়ির দিকে-আরেকবার দেখতে সেই নিষ্পাপ মুখটি, যে মুখে প্রতিদিন ছিল হাসির ঝিলিক, আজ যা নিথর।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নেককিড়ি কবরস্থানের সামনের বিশাল মাঠে জানাজার আগেই মানুষের ঢল নামে। শিশু থেকে বৃদ্ধ-সবার চোখে টলমল জল, সবার মুখে একই আর্তনাদ-“আল্লাহ, এমন মৃত্যু কারও ঘরে না দিও।” সাদা কাপড়ে মোড়ানো সাজিদের ছোট্ট দেহটি জানাজা ময়দানে আনা মাত্র কান্নায় ভেঙে পড়ে চারদিক। শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিশুটির মা-বারবার ছুটে যেতে চাইছিলেন ছেলের দিকে। স্বজনরা ধরে রাখলেও থামাতে পারেননি তার বুকফাটা আর্তনাদ।

জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। নামাজ শেষে যখন তাকবির ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে, তখন হাজারো হাত দোয়ার ভঙ্গিতে এক হয়ে যায়-সাজিদের মাগফিরাতের জন্য, তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য আল্লাহর রহমত ও ধৈর্যের প্রার্থনা করে।

জানাজার পর যখন সাজিদের ছোট্ট কফিনটি কবরের দিকে নেওয়া হয়, মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় চারপাশ। বাতাস পর্যন্ত নিস্তব্ধ-শুধু শোনা যাচ্ছিল কান্নার শব্দ। স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব-কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। এক শিশুর জানাজায় পুরো গ্রামের এমন সমবেদনার দৃশ্য আগে কখনও দেখেনি কোয়েলহাট পূর্বপাড়া।

মর্মান্তিক এই ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। খেলতে খেলতে সাজিদ গভীর নলকূপের ৪০ ফুট নিচের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অবিরাম প্রচেষ্টায় ৩২ ঘণ্টা মাটি খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু প্রাণ ছিল না-তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এক গ্রামের বুক চিরে যাওয়া এই মৃত্যু স্মরণ করিয়ে দিল-একটি শিশুর জীবন কত মূল্যবান, আর অবহেলার ছোট ভুল কত বড় শোক বয়ে আনতে পারে। কোয়েলহাট গ্রাম এখনও কাঁদছে সাজিদের জন্য; কাঁদছে এক টুকরো নিষ্পাপ হাসি হারানোর বেদনায়।