
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, তরুণ ও যুব সমাজের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বিএনপির অন্যতম অগ্রাধিকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে চট্টগ্রামে যেভাবে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে উঠেছিল, তেমনি ফেনী অঞ্চলেও ইপিজেড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে স্থানীয় মানুষ শিল্পকারখানায় কাজের সুযোগ পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের মানুষের জন্য বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নারীদের বিশেষ করে খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সীমিত হলেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই সহায়তা পুরো সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়—এ কথা সবাই জানে। তবে মাসের চার সপ্তাহের মধ্যে অন্তত এক সপ্তাহ সরকারিভাবে সহযোগিতা দেওয়া গেলে সেটিও অনেক পরিবারের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে উঠবে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমে।
ফেনীসহ আশপাশের জেলার মানুষের চাহিদার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ফেনীতে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারা দেশে একটি সমন্বিত হেলথকেয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেবেন। এতে অপ্রয়োজনে বড় হাসপাতালে যাওয়ার ঝামেলা কমবে।
ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর উন্নয়নের দাবির পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও জনগণের কাছে একটি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করাই দলের মূল দাবি। তিনি বলেন, বিএনপি রাজনীতি করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য এবং যা বলা হবে তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। জনগণই বিএনপির সব শক্তির উৎস।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে মানুষের ভোট দেওয়ার ও মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এখন আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে কেউ ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে।
ভোটের দিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে ফজরের জামাত শেষে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণের প্রকৃত লাভ হবে তখনই, যখন পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা যাবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 























