
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কাভান সুলিভান। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ‘মাস সেরা’ নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়েও ইতোমধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তরুণ এই প্রতিভাকে ঘিরে আগামী বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখছেন কোচ পচেত্তিনো।
চার ভাইয়ের মধ্যে রোনান ও ডেক্লান বাংলাদেশের হয়ে খেলার পথ বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে কাভান ও তাঁর আরেক ভাই প্রতিনিধিত্ব করছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। ফলে সুলিভান পরিবারকে ঘিরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
কাভানের বাংলাদেশি শিকড় তাঁর মা হেইকি সুলিভানের মাধ্যমে। তাঁর নানি সুলতানা আলম ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন। হেইকি জার্মান বংশোদ্ভূত এক নাগরিককে বিয়ে করার কারণে তাঁর পরিবারে জার্মান পরিচয়ের যোগ রয়েছে। পরে তিনি বিয়ে করেন সাবেক ফুটবলার ব্রেন্ডন সুলিভানকে। ব্রেন্ডন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের একটি ফুটবল একাডেমিতে শিক্ষক ও কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বসবাস করলেও বাংলাদেশি শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখেছে সুলিভান পরিবার। রোনানের বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেকের দিন কাভান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার করে নিজের ভালোবাসার কথা জানান। এমনকি নিজের জন্য তৈরি প্রথম থ্রিডি বুটেও যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির পতাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানচিত্র স্থান দিয়েছেন তিনি।
কাভানের পেশাদার ফুটবলে উত্থানও ছিল দ্রুতগতির। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মেজর লিগ সকারে অভিষেক করেন তিনি। এরপর তাঁর ড্রিবলিং, গতি ও মাঠে অবস্থান বোঝার দক্ষতা ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিও তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হলে ইংল্যান্ডে গিয়ে ক্লাবটির হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন তিনি।
মাঠে কাভানের অন্যতম শক্তি তাঁর বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত দিক পরিবর্তনের ক্ষমতা। বল পায়ে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে জায়গা তৈরি করার পাশাপাশি সৃজনশীলতার মাধ্যমে সতীর্থদের গোলের সুযোগ করে দিতে পারেন তিনি। চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে মেজর লিগে সাত গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন কাভান। এর পরই জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পান এই তরুণ।
ফিলাডেলফিয়ার উপকণ্ঠে শৈশবের ক্লাব এফসি ডেলকো থেকেই কাভানের ফুটবলযাত্রার শুরু। ক্লাবটির জেনারেল ম্যানেজার রব এলিয়ট সুলিভান পরিবারের সব সন্তানকে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলে খেলতে দেখেছেন। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুবাদে কাভানের প্রতিভা খুব অল্প বয়সেই তাঁর নজরে আসে।
সিএনএন স্পোর্টসকে এলিয়ট বলেন, কাভানের বয়স যখন প্রায় ৯ বছর, তখনই তাঁর মধ্যে অসাধারণ প্রতিভার ছাপ দেখা গিয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, কিছু শিশু অন্যদের চেয়ে আলাদাভাবে তৈরি হয়—তাদের মানসিকতা ও কাজের প্রতি মনোযোগও থাকে ব্যতিক্রমী।
অধিকার ডেস্কঃ 























