
লিফট চালু থাকার পরও পেছনে হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে আদালতের ছয়তলায় নেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একই সঙ্গে মানবিক দিক বিবেচনা করে সামনে হাতকড়া পরানোর ব্যবস্থা করতে আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ রবিউল আলমের আদালতে মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় পলকসহ আট আসামিকে হাজির করা হয়। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
আদালতে কথা বলার অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম। লিফট চালু দেখলাম, তারপরও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।’
জবাবে বিচারক রবিউল আলম বলেন, ‘এটা তো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।’ তখন পলক বলেন, হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশেও বক্তব্য দেন পলক। শুনানি শেষে তাকে আদালত থেকে নামানোর সময়ও সিঁড়ি দিয়ে নেওয়া হয়। পরে হাজতখানায় নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।’
তবে পরে পলককে লিফটে করে নিচে নামানো হয় বলে আদালতসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এদিন মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামির মধ্যে পলকসহ আটজনকে আদালতে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় তাদের এ মামলায় আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
এ কারণে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদউদ্যান এলাকায় গুলিতে ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহত হন। তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ গঠন এখনো হয়নি—তাই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অধিকার ডেস্কঃ 
























