ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
খাদ্য অপচয় কমাতে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান পোশাকশ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান চট্টগ্রামে শ্রমিক হত্যা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির মশাল মিছিল টেস্ট বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি তাইজুল ও মিরাজের ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণের সড়যন্ত্র, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ লাইন, ডিলারের দোকানে ক্ষোভ ও পুলিশ মোতায়েন ইবির পঞ্চম সমাবর্তনে নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, নিবন্ধন শুরু ৫ নভেম্বর পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষে সফল বেরোবি শিক্ষার্থী আকরাম আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন চীনা নেতা লিউ হাইশিং

ডেঙ্গুর ঝুঁকি ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌরসভার টিম ৪ এর অভিযান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিতকরণ, জমে থাকা পানি অপসারণ ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেন পৌরসভার টিম-৪-এর সদস্যরা। রবিবার বিকালে তোলা ছবি

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু মশা নিধনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুর মহালদারপাড়া, বোর্ডঘর ও বাবুপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালায় পৌরসভার টিম-৪।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বাড়ির আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিদর্শন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়। অভিযানে রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরাও অংশ নেন।

বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিয়মিত নজরদারির অভাব ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পৌরসভার এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শনাক্ত করা, জমে থাকা পানি সরানো এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করা।

শুধু মশা মারলে চলবে না, বন্ধ করতে হবে প্রজননস্থল

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ দূর করা সমান জরুরি। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের সামান্য অংশে জমে থাকা পানিও এডিস মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে অভিযানে শুধু দৃশ্যমান ময়লা পরিষ্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; কোথায় পানি জমছে, কোথায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে এবং কোথায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন—সেসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পৌরসভার প্রচারণায় ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এমন বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, বৃষ্টির পানি জমতে না দেওয়া এবং পানি ধরে রাখতে পারে এমন পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়।

জলাধারে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণ

অভিযান চলাকালে কয়েকটি জলাধারে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। পৌরসভার টিম-৪-এর সদস্যরা এসব জলাধারে জমে থাকা পানি অপসারণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

অভিযানসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কোনো স্থানে লার্ভা না পাওয়া গেলেও সেখানে ভবিষ্যতে এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি নেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পানি জমে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ অনুযায়ী, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে শুধু নোংরা নালা কিংবা আবর্জনার স্তূপ নয়, ঘরের ভেতর ও বাইরের ছোট ছোট পানির পাত্রও নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

বাড়ির আঙিনা থেকে ছাদ—নজরদারির বাইরে নয় কোনো স্থান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে অভিযানের সময় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র ও বাগান নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা এবং পানি জমতে পারে এমন সামগ্রী খোলা জায়গায় ফেলে না রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

কারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল সব সময় বড় জলাশয় বা দৃশ্যমান আবর্জনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বাড়ির কোণে পড়ে থাকা একটি পাত্র কিংবা ছাদে জমে থাকা সামান্য পানিও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্টরা সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত অপসারণ এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখা বা নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অভিযানে কর্মকর্তা, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা

পৌরসভার টিম-৪-এর মাঠপর্যায়ের এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী।

এ ছাড়া পৌরসভার অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসাঃ তানজিলা খাতুন, মোঃ এ্যানি খাতুন ও মোসাঃ খুসি আরা খাতুনসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা নয়

ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা জরুরি। নিজে থেকে ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে জ্বর হলেই ডেঙ্গু হয়েছে—এমন ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

অভিযান এক দিনের, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব প্রতিদিনের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু কর্তৃপক্ষের অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রতিটি বাড়ি, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

পৌরসভার টিম-৪-এর অভিযানে হরিপুর মহালদারপাড়া, বোর্ডঘর ও বাবুপাড়া এলাকায় পানি অপসারণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনের সতর্কতাই এ উদ্যোগের কার্যকারিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় বারবার পানি জমলে তার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাও জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবহেলার সুযোগ নেই। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মতো ছোট পদক্ষেপই সম্মিলিতভাবে বড় ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খাদ্য অপচয় কমাতে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান

ডেঙ্গুর ঝুঁকি ঠেকাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌরসভার টিম ৪ এর অভিযান

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু মশা নিধনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিপুর মহালদারপাড়া, বোর্ডঘর ও বাবুপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালায় পৌরসভার টিম-৪।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বাড়ির আঙিনা, গলি, খোলা জায়গা, জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিদর্শন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়। অভিযানে রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরাও অংশ নেন।

বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নিয়মিত নজরদারির অভাব ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই পৌরসভার এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শনাক্ত করা, জমে থাকা পানি সরানো এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করা।

শুধু মশা মারলে চলবে না, বন্ধ করতে হবে প্রজননস্থল

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হলেও এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ দূর করা সমান জরুরি। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিকের সামান্য অংশে জমে থাকা পানিও এডিস মশার প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে অভিযানে শুধু দৃশ্যমান ময়লা পরিষ্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; কোথায় পানি জমছে, কোথায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে এবং কোথায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন—সেসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পৌরসভার প্রচারণায় ‘বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার করি, করিব ডেঙ্গু প্রতিকার’—এমন বার্তার মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, বৃষ্টির পানি জমতে না দেওয়া এবং পানি ধরে রাখতে পারে এমন পরিত্যক্ত সামগ্রী সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানানো হয়।

জলাধারে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণ

অভিযান চলাকালে কয়েকটি জলাধারে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। পৌরসভার টিম-৪-এর সদস্যরা এসব জলাধারে জমে থাকা পানি অপসারণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত জলাধার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেন।

অভিযানসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় জলাধারের আশপাশে কিছু মশা উড়তে দেখা গেলেও মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কোনো স্থানে লার্ভা না পাওয়া গেলেও সেখানে ভবিষ্যতে এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি নেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পানি জমে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ অনুযায়ী, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। ফলে শুধু নোংরা নালা কিংবা আবর্জনার স্তূপ নয়, ঘরের ভেতর ও বাইরের ছোট ছোট পানির পাত্রও নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।

বাড়ির আঙিনা থেকে ছাদ—নজরদারির বাইরে নয় কোনো স্থান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে অভিযানের সময় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র ও বাগান নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান, ডাবের খোসা এবং পানি জমতে পারে এমন সামগ্রী খোলা জায়গায় ফেলে না রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

কারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল সব সময় বড় জলাশয় বা দৃশ্যমান আবর্জনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বাড়ির কোণে পড়ে থাকা একটি পাত্র কিংবা ছাদে জমে থাকা সামান্য পানিও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্টরা সপ্তাহে অন্তত এক দিন বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ ভালোভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত অপসারণ এবং পানির পাত্র ঢেকে রাখা বা নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অভিযানে কর্মকর্তা, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা

পৌরসভার টিম-৪-এর মাঠপর্যায়ের এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যরা অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণপূর্ত দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরান হোসাইন এবং দৈনিক চাঁপাই দর্পণের প্রতিনিধি মো. ইসাহাক আলী।

এ ছাড়া পৌরসভার অফিস সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিল ক্লার্ক মো. সেরাজুল ইসলাম, ইউসুফ, ফয়সাল, মেহেদী, আরাফাত ও আফজালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মোসাঃ তানজিলা খাতুন, মোঃ এ্যানি খাতুন ও মোসাঃ খুসি আরা খাতুনসহ স্থানীয় বাসিন্দারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা নয়

ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে উপসর্গের ধরন ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা জরুরি। নিজে থেকে ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে জ্বর হলেই ডেঙ্গু হয়েছে—এমন ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

অভিযান এক দিনের, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব প্রতিদিনের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু কর্তৃপক্ষের অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রতিটি বাড়ি, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

পৌরসভার টিম-৪-এর অভিযানে হরিপুর মহালদারপাড়া, বোর্ডঘর ও বাবুপাড়া এলাকায় পানি অপসারণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনের সতর্কতাই এ উদ্যোগের কার্যকারিতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় বারবার পানি জমলে তার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাও জরুরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবহেলার সুযোগ নেই। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মতো ছোট পদক্ষেপই সম্মিলিতভাবে বড় ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।