
সিলেটের বালাগঞ্জে হাসপাতালে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় ঘটনার প্রায় ১৯ বছর পর সুমেল খা নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সিলেট জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি দৈনিক নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোশতাক আহমদ। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০০৭ সালে হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, দণ্ডিত সুমেল খা বালাগঞ্জ উপজেলার গোপকান গ্রামের তোইমুজ খার ছেলে।
২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বালাগঞ্জ সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১৩ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে ১০ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন, ৬ নভেম্বর, শিশুটির চাচা বালাগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
রায়ে জরিমানার ১০ লাখ টাকা ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আসামি জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায়ের জন্য সিলেটের জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে।
এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর জন্য সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী, হাজতে কাটানো সময়ের সুবিধাও পাবেন দণ্ডিত আসামি।
অধিকার ডেস্কঃ 




















