
কক্সবাজারের টেকনাফের মিনাবাজার সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের দৃশ্য দেখে ফেলার জের ধরে এক পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় মান্নান বাহিনী নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। হামলায় দুই শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১২ বছর বয়সী আহমদ নূরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার রাতে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকায় হাফেজ জয়নালের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে আহমদ নূর (১২) ও মোস্তাকের ছেলে আরাফাত (১৬)। তারা দুজন চাচাতো ভাই।
হাফেজ জয়নালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে মোস্তাক সীমান্তসংলগ্ন খালে জাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি দেখতে পান, সীমান্তের ওপার থেকে ইউসুফ আলীর দুই ছেলে মান্নান ও সালেহ মাদকের চালান নিয়ে আসছেন। ভয় পেয়ে মোস্তাক দ্রুত বাড়ি ফিরে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোস্তাক বাড়ি ফিরেছেন জানতে পেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মান্নান ও সালেহের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আহমদ নূরের পেটে গুলি লাগে এবং আরাফাত ছুরিকাঘাতে আহত হয়। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ আসছে খবর পেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
জয়নাল জানান, আহতদের প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুলিবিদ্ধ আহমদ নূরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আরাফাত বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাত গভীর হওয়ায় এ বিষয়ে টেকনাফ থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, মিনাবাজার সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অপরাধ কার্যক্রমে মান্নান ও তার সহযোগীদের প্রভাব রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নাফ নদসংলগ্ন কিছু মাছের ঘের গোপনে লিজ নিয়ে এসব কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।
অধিকার ডেস্কঃ 



















