
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগকে কেন্দ্র করে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তের জন্য সময় নির্ধারণ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের চাকলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষিকা (আইসিটি) সাবিনা ইয়াসমিন ও সহকারী শিক্ষক মৌলভী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জাল সনদ ও বয়স গোপন করে নিয়োগ নেয়ার অভিযোগ করেছেন সিফাত আলী নামে এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন নিয়োগের সময় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ভুয়া (জাল) সনদপত্র দাখিল করে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং চাকরি লাভ করেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।
অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক মৌলভী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং নিজের প্রকৃত বয়স গোপন করেছেন।
প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে মাদ্রাসার বিল-ভাউচার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মৌলভী মিজানুর রহমানের জন্ম তারিখ ১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। অথচ তিনি চাকরিতে যোগদান করেছেন ১৯৮৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর। হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ১৫ বছর ৭ মাস বয়সে তিনি চাকরিতে যোগ দেন—যা সরকারি নিয়োগ নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,“আমি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই চাকরিতে যোগদান করেছি। তখন নিয়োগ বোর্ড আমার সনদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। এখন কেনো অভিযোগ উঠছে, তা আমি বুঝতে পারছি না। তবে তদন্তে যদি কোনো ভুল প্রমাণিত হয়, কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নেবো।”
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক মৌলভী মিজানুর রহমান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“সরকার আমাকে চাকরি দিয়েছে, আমি চাকরি করছি। এর বাইরে কিছু বলার নেই।”
চাকলা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুর রহমান বলেন,“নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন জানান, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার(অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য আগামী ৬ এপ্রিল সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলবে। এখন দেখার বিষয়—তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং প্রশাসন কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















