ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন

গতকাল এ টিকার উদ্বোধন করা হয়।

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। জেলার প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, পৌর প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: আব্দুস সামাদসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হাম প্রতিরোধে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদেরও টিকার আওতায় আনতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে জেলায় হামের রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা ক্রয়ের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় স্বাস্থ্য বিভাগকে।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের ২০ জেলার ৩০টি এলাকাকে সরকারিভাবে হামের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, পৌরসভা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে, গত ২ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় হামের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় এনে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হামমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই—অর্থাৎ ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে—এই টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণই হামের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে শিশুদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। জেলার প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, পৌর প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: আব্দুস সামাদসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হাম প্রতিরোধে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদেরও টিকার আওতায় আনতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে জেলায় হামের রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা ক্রয়ের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় স্বাস্থ্য বিভাগকে।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের ২০ জেলার ৩০টি এলাকাকে সরকারিভাবে হামের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, পৌরসভা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে, গত ২ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় হামের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় এনে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হামমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই—অর্থাৎ ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে—এই টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণই হামের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে শিশুদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।