
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। জেলার প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, পৌর প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: আব্দুস সামাদসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হাম প্রতিরোধে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদেরও টিকার আওতায় আনতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতাদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে জেলায় হামের রোগী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা ক্রয়ের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় স্বাস্থ্য বিভাগকে।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের ২০ জেলার ৩০টি এলাকাকে সরকারিভাবে হামের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, পৌরসভা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে, গত ২ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় হামের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় এনে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হামমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই—অর্থাৎ ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে—এই টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণই হামের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে শিশুদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























