
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী নভেম্বর মাসে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়াম জ্বালানির চতুর্থ চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, শনিবার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষায়িত তিনটি ট্রাকে করে পারমাণবিক জ্বালানির চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
এ নিয়ে রূপপুর প্রকল্পে মোট চারটি চালান পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির দুটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য দুটি চালান রয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম জ্বালানি অ্যাসেম্বলি সাতটি কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃসংযোজনের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি অ্যাসেম্বলি দুটি চালানে আনা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই ইউনিটের জন্য মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে।
প্রথম ইউনিটে স্টেজ-সি কার্যক্রম শুরু
রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রয়েছে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ইউনিট। এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটটি ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান প্রথম ইউনিটে এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।
স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর, পরিচালনব্যবস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
নভেম্বরেই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য
পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রযুক্তিগতভাবে এ প্রক্রিয়াকে ‘সিনক্রোনাইজেশন’ বলা হয়।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা নির্ভর করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।
অধিকার ডেস্কঃ 

























