ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

দুর্গন্ধযুক্ত স্কুল ফিডিংয়ে অসুস্থ ২০ শিশু-স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সরকারের বিনামূল্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্গন্ধযুক্ত ও নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের কারণে পেট ব্যথা, বমি ও চোখমুখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয় শিশুদের মধ্যে। শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে চালু হওয়া এই কর্মসূচি উল্টো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ানোয় উদ্বেগ ছড়িয়েছে অভিভাবক ও সচেতন মহলে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্কুল ফিডিংয়ের অংশ হিসেবে বিতরণ করা পাউরুটি খাওয়ার পরপরই দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অনেকের পেট ব্যথা, বমি ও চোখমুখে জ্বালাপোড়ার লক্ষণ দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিতরণ করা পাউরুটির স্তুপ শিক্ষকদের কক্ষে মেঝেতে পড়ে আছে। শিক্ষার্থীরা খাবারের দুর্গন্ধ টের পেয়ে তা ফেলে দিতে চাইলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয়ে—শুরু হয় কান্নাকাটি ও ছোটাছুটি। খবর পেয়ে অভিভাবকরা দ্রুত ছুটে এসে সন্তানদের বাসায় নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিবা আফরিন জানায়, “আগে খাবার ভালো ছিল, কিন্তু এখন খুবই খারাপ মানের দেওয়া হচ্ছে। আজকের পাউরুটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।”পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মাশরুফা খাতুন জানায়, “খাওয়ার পরপরই পেট ব্যথা শুরু হয়, অনেকের বমিও হয়েছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, বিতরণ করা পাউরুটির স্তুপ শিক্ষকদের কক্ষে মেঝেতে পড়ে আছে।

অভিভাবকরা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সরকারের মহৎ উদ্যোগ যদি এমন অবহেলা ও নিম্নমানের কারণে শিশুদের অসুস্থ করে তোলে, তাহলে তা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, এর আগেও সরবরাহকারী সংস্থাকে খাবারের নিম্নমানের বিষয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো উন্নতি না হয়ে উল্টো আরও খারাপ মানের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম-গাক’-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪১ হাজার ১৩৮ শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের ও অনিরাপদ খাবার সরবরাহ এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

দুর্গন্ধযুক্ত স্কুল ফিডিংয়ে অসুস্থ ২০ শিশু-স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

সরকারের বিনামূল্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্গন্ধযুক্ত ও নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের কারণে পেট ব্যথা, বমি ও চোখমুখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয় শিশুদের মধ্যে। শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে চালু হওয়া এই কর্মসূচি উল্টো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ানোয় উদ্বেগ ছড়িয়েছে অভিভাবক ও সচেতন মহলে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্কুল ফিডিংয়ের অংশ হিসেবে বিতরণ করা পাউরুটি খাওয়ার পরপরই দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অনেকের পেট ব্যথা, বমি ও চোখমুখে জ্বালাপোড়ার লক্ষণ দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিতরণ করা পাউরুটির স্তুপ শিক্ষকদের কক্ষে মেঝেতে পড়ে আছে। শিক্ষার্থীরা খাবারের দুর্গন্ধ টের পেয়ে তা ফেলে দিতে চাইলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয়ে—শুরু হয় কান্নাকাটি ও ছোটাছুটি। খবর পেয়ে অভিভাবকরা দ্রুত ছুটে এসে সন্তানদের বাসায় নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরেই নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিবা আফরিন জানায়, “আগে খাবার ভালো ছিল, কিন্তু এখন খুবই খারাপ মানের দেওয়া হচ্ছে। আজকের পাউরুটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।”পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মাশরুফা খাতুন জানায়, “খাওয়ার পরপরই পেট ব্যথা শুরু হয়, অনেকের বমিও হয়েছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, বিতরণ করা পাউরুটির স্তুপ শিক্ষকদের কক্ষে মেঝেতে পড়ে আছে।

অভিভাবকরা ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সরকারের মহৎ উদ্যোগ যদি এমন অবহেলা ও নিম্নমানের কারণে শিশুদের অসুস্থ করে তোলে, তাহলে তা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, এর আগেও সরবরাহকারী সংস্থাকে খাবারের নিম্নমানের বিষয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো উন্নতি না হয়ে উল্টো আরও খারাপ মানের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রাম উন্নয়ন কর্ম-গাক’-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪১ হাজার ১৩৮ শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের ও অনিরাপদ খাবার সরবরাহ এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত মনিটরিং ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।