ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
সারের কোনো সংকট নেই দেশে , সমস্যা বিতরণে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী গরমে ঠান্ডা স্বস্তি, ঘরেই সহজে বানান সুস্বাদু ডাবের পুডিং ফিফার সব নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলবদলে ফিরল বসুন্ধরা কিংস একসঙ্গে নিভল পাঁচ শিশুর প্রাণের প্রদীপ- পাশাপাশি কবরে শায়িত যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জে আটক রংপুরে ৪ খুন-গাফিলতির কোন সুযোগ নেই, আশ্বাস নতুন পুলিশ কমিশনারের নেপালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন- দেশে ফিরে অপু বিশ্বাস টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩ গাজীপুরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫ পাইপগান ও সাড়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

এশিয়ার ভয়াবহ বন্যা–ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বিরেউনের একটি বন্যার্ত গ্রামে মানুষ তাদের জিনিসপত্র বহন করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। ছবি-সংগৃহীত

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা সোমবার এক হাজার পেরিয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া উদ্ধার ও সহায়তা তৎপরতা জোরদারে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়। গত সপ্তাহজুড়ে শ্রীলঙ্কার পুরো দ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা অঞ্চলসহ দক্ষিণ থাইল্যান্ড ও উত্তর মালয়েশিয়ার বহু এলাকায় অব্যাহত প্রবল বর্ষণ দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও ঝড়ের শক্তি আরও বেড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অনেক এলাকায় গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লোকজন ছাদে আশ্রয় নিয়ে নৌকা ও হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন। উত্তর সুমাত্রা সফরে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো জানান, সবচেয়ে সংকটময় সময় হয়তো পেরিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, বিশেষ করে বিচ্ছিন্ন এলাকায়। দেশটিতে অন্তত ৫০২ জনের মৃত্যু ও আরও ৫০০ জনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে তিনি এখনও প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানাননি। ২০১৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প–সুনামির পর এটিই ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’–জনিত বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। দেশটিতে কমপক্ষে ৩৫৫ জন নিহত এবং ৩৬৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। রাজধানী কলম্বোয় পানি রাতভর সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছালেও বৃষ্টি থামায় পানির স্তর কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিছু দোকানপাট ও অফিস ইতোমধ্যে খুলেছে। বাসিন্দারা জানান, এ বছরের বন্যা শুধু মাত্রায় নয়, গতি ও ধ্বংসক্ষমতার দিক থেকেও নজিরবিহীন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যাঞ্চলে সড়ক পরিষ্কার হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এ দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার কলম্বোর উত্তরে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ থাইল্যান্ডে বন্যায় অন্তত ১৭৬ জন মারা গেছে এবং সরকার ত্রাণ সহায়তা চালাচ্ছে, যদিও সংকট মোকাবিলায় অদক্ষতার অভিযোগে সমালোচনা বাড়ছে। মালয়েশিয়ার পারলিস রাজ্যের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং সেখানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

এসআর

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

সারের কোনো সংকট নেই দেশে , সমস্যা বিতরণে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

এশিয়ার ভয়াবহ বন্যা–ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা সোমবার এক হাজার পেরিয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া উদ্ধার ও সহায়তা তৎপরতা জোরদারে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়। গত সপ্তাহজুড়ে শ্রীলঙ্কার পুরো দ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা অঞ্চলসহ দক্ষিণ থাইল্যান্ড ও উত্তর মালয়েশিয়ার বহু এলাকায় অব্যাহত প্রবল বর্ষণ দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও ঝড়ের শক্তি আরও বেড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অনেক এলাকায় গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় লোকজন ছাদে আশ্রয় নিয়ে নৌকা ও হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন। উত্তর সুমাত্রা সফরে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো জানান, সবচেয়ে সংকটময় সময় হয়তো পেরিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, বিশেষ করে বিচ্ছিন্ন এলাকায়। দেশটিতে অন্তত ৫০২ জনের মৃত্যু ও আরও ৫০০ জনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে তিনি এখনও প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানাননি। ২০১৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প–সুনামির পর এটিই ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে এবং ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’–জনিত বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। দেশটিতে কমপক্ষে ৩৫৫ জন নিহত এবং ৩৬৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। রাজধানী কলম্বোয় পানি রাতভর সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছালেও বৃষ্টি থামায় পানির স্তর কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিছু দোকানপাট ও অফিস ইতোমধ্যে খুলেছে। বাসিন্দারা জানান, এ বছরের বন্যা শুধু মাত্রায় নয়, গতি ও ধ্বংসক্ষমতার দিক থেকেও নজিরবিহীন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যাঞ্চলে সড়ক পরিষ্কার হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এ দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার কলম্বোর উত্তরে বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ থাইল্যান্ডে বন্যায় অন্তত ১৭৬ জন মারা গেছে এবং সরকার ত্রাণ সহায়তা চালাচ্ছে, যদিও সংকট মোকাবিলায় অদক্ষতার অভিযোগে সমালোচনা বাড়ছে। মালয়েশিয়ার পারলিস রাজ্যের বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং সেখানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

এসআর