ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
যেভাবে শ্রদ্ধাভরে পূর্ববর্তী নবীদের স্মরণ করতেন মহানবী (সা.) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি যে ছয় সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন জারি বিএনপির নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জাল প্রত্যয়নপত্রে জামিনে বেরিয়ে গেলেন মাদক কারবারি- বিএনপির কর্মী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন গোদাগাড়ীতে ১৪০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা ময়মনসিংহে ডিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে নোবিপ্রবি উপাচার্যের অভিনন্দন বার্তা বাগাতিপাড়ায় ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপে সিনিয়র রোভার মেট ইউসুফ, গার্লস ইন সিনিয়র রোভার মেট ইন্না নির্বাচিত
বাগমারায় বোরো চাষ হুমকিতে

রাজশাহীতে শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকদের ভিড়

গতকাল দুপুরে মচমইল বাজারে সোহেল ফিলিং স্টেশনের চারদিকে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষককে শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকট ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমির বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। সেচের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়ে কৃষকদের শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে ফিলিং স্টেশনে ছুটে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মচমইল বাজারে অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়, যেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক শ্যালোমেশিন কাঁধে বা মাথায় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেলের অপেক্ষা করছিলেন। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে।

পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন থেকে অপেক্ষমাণ কৃষকদের শ্যালোমেশিনের ট্যাঙ্কে সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা হয়।

দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর গ্রামের কৃষক ইসলাম সরদার জানান, বিলসতি বিলে তিনি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিজেল সংকটের কারণে তার সেচ পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে ফসল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘ ভোগান্তির পর প্রশাসনের সহায়তায় ডিজেল পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন তিনি।

একই ধরনের সমস্যার কথা জানান গনিপুর ইউনিয়নের দুবিলা বিল এলাকার সেচ পাম্প মালিক জাফর আলী। তার মতে, ডিজেল না থাকায় সেচ কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগমারায় মোট ১৮ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশই ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। উপজেলায় ২৪৮টি ডিজেলচালিত গভীর নলকূপ এবং ১৮০টির বেশি শ্যালোমেশিন রয়েছে, যেগুলো দিয়ে নিয়মিত সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সাময়িকভাবে সেচে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে সঠিক সময়ে সেচ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেভাবে শ্রদ্ধাভরে পূর্ববর্তী নবীদের স্মরণ করতেন মহানবী (সা.)

বাগমারায় বোরো চাষ হুমকিতে

রাজশাহীতে শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকদের ভিড়

প্রকাশের সময়ঃ ০১:০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকট ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমির বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। সেচের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়ে কৃষকদের শ্যালোমেশিন মাথায় নিয়ে ফিলিং স্টেশনে ছুটে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মচমইল বাজারে অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়, যেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক শ্যালোমেশিন কাঁধে বা মাথায় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেলের অপেক্ষা করছিলেন। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে।

পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন থেকে অপেক্ষমাণ কৃষকদের শ্যালোমেশিনের ট্যাঙ্কে সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা হয়।

দ্বীপপুর ইউনিয়নের নানসর গ্রামের কৃষক ইসলাম সরদার জানান, বিলসতি বিলে তিনি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিজেল সংকটের কারণে তার সেচ পাম্প বন্ধ রয়েছে। ফলে ফসল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘ ভোগান্তির পর প্রশাসনের সহায়তায় ডিজেল পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন তিনি।

একই ধরনের সমস্যার কথা জানান গনিপুর ইউনিয়নের দুবিলা বিল এলাকার সেচ পাম্প মালিক জাফর আলী। তার মতে, ডিজেল না থাকায় সেচ কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগমারায় মোট ১৮ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশই ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। উপজেলায় ২৪৮টি ডিজেলচালিত গভীর নলকূপ এবং ১৮০টির বেশি শ্যালোমেশিন রয়েছে, যেগুলো দিয়ে নিয়মিত সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সাময়িকভাবে সেচে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে সঠিক সময়ে সেচ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।