ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
নারী যাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ নলডাঙ্গায় মাদক সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড নোবিপ্রবি অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারকে ‘বড় অঘটন’ বলছেন সাবেক ক্রিকেটাররা উপসচিব পদে ২৭৭ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিল সরকার বাবা হলেন গায়ক অনুপম রায়, পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন প্রস্মিতা নতুন পে-স্কেল এ বছরেই ঘোষণা, বাস্তবায়নও চলতি বছরে: অর্থমন্ত্রী ভাঙ্গায় মসজিদের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ আমানত বিমানবন্দরে সাড়ে ৫ কোটি টাকার সিগারেট-আইফোন জব্দ ১৮০ দিনে সরকারের নানা অর্জনের দাবি, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বর্ষবরণ

ঢাবি চারুকলায় প্রাণের স্পন্দন

চৈত্রের তপ্ত দুপুরে সবাই ব্যস্ত।

চৈত্রের তপ্ত দুপুরেও থেমে নেই সৃজনশীলতার ছন্দ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা প্রাঙ্গণে চলছে ব্যস্ততা। কেউ মাটির সরায় আলপনা আঁকছেন, আবার কারও তুলির আঁচড়ে লাল, সাদা, হলুদ ও নীল রঙে ফুটে উঠছে বাংলার গ্রাম, নদী আর নৌকার চিরচেনা দৃশ্য। বিমূর্ত রেখায় যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে সময়ের গল্প।

আসন্ন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চলছে এই প্রস্তুতি। আর মাত্র এক সপ্তাহ পর বাংলা নববর্ষের দিন এখান থেকেই বের হবে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

চারুকলার বিভিন্ন প্রাঙ্গণে দেখা যায় সারি সারি রঙিন সরা ও জলরঙের চিত্রকর্ম। গ্রামবাংলার নিসর্গ, শান্ত প্রকৃতি আর লোকজ জীবন উঠে এসেছে শিল্পীদের তুলিতে। জয়নুল গ্যালারি-র ভেতরে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের মুখোশ—বাঘ, প্যাঁচা, রাজা কিংবা কল্পনার বিচিত্র সব চরিত্র।

খোলা প্রাঙ্গণে ত্রিপলের নিচে তৈরি হচ্ছে বিশালাকৃতির কাঠামো—মোরগ, কাঠের হাতি, পায়রা। বাঁশ ও কাঠের সমন্বয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এসব প্রতীকী অবয়ব। কোথাও শিক্ষক দিচ্ছেন দিকনির্দেশনা, আবার কোথাও শিক্ষার্থীরাই খুঁজে নিচ্ছেন নতুন শিল্পভাষা। সম্মিলিত এই প্রয়াসে উৎসবের রূপ নিচ্ছে আরও বর্ণিল।

পুরো পরিবেশে বিরাজ করছে এক অদৃশ্য উৎসবমুখরতা। কোথাও ভেসে আসছে বাংলা গানের সুর, কোথাও শোনা যাচ্ছে হাসির শব্দ। চারুকলার নবীন শিক্ষার্থী পলক হালদার বলেন, এই শোভাযাত্রার প্রস্তুতি অন্যরকম অনুভূতি দেয়—মনে হয় নিজের হাতেই সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নতুন বছরের প্রথম সকাল।

শুধু শিক্ষার্থী-শিক্ষকরাই নয়, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেও মুখর হয়ে উঠেছে চারুকলা। গৃহিণী মারুফা হাসান তাঁর মেয়েকে নিয়ে এসেছেন কাজ দেখতে। তার ভাষায়, এমন নির্মল আনন্দ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

এবার শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। চারুকলা অনুষদের ডিন শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল জানান, এবারের প্রতিটি মোটিফে রয়েছে প্রতীকী অর্থ ও সময়োপযোগী বার্তা। প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে একটি বিশাল মোরগের প্রতিকৃতি—যা নতুন দিনের সূচনা ও জাগরণের প্রতীক।

এছাড়া লোকজ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি, সংগীতের প্রতীক হিসেবে দোতারা, শান্তির বার্তা বহনকারী পায়রা এবং কিশোরগঞ্জের পোড়ামাটির টেপা ঘোড়াও স্থান পেয়েছে এবারের আয়োজনে। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য ও সমকালীন ভাবনার মিশেলে গড়ে উঠছে এক বর্ণাঢ্য উৎসবের আবহ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী যাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, গোপালগঞ্জে ঢাকাগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

বর্ষবরণ

ঢাবি চারুকলায় প্রাণের স্পন্দন

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

চৈত্রের তপ্ত দুপুরেও থেমে নেই সৃজনশীলতার ছন্দ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা প্রাঙ্গণে চলছে ব্যস্ততা। কেউ মাটির সরায় আলপনা আঁকছেন, আবার কারও তুলির আঁচড়ে লাল, সাদা, হলুদ ও নীল রঙে ফুটে উঠছে বাংলার গ্রাম, নদী আর নৌকার চিরচেনা দৃশ্য। বিমূর্ত রেখায় যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে সময়ের গল্প।

আসন্ন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চলছে এই প্রস্তুতি। আর মাত্র এক সপ্তাহ পর বাংলা নববর্ষের দিন এখান থেকেই বের হবে বর্ণিল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। ‘নববর্ষের ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

চারুকলার বিভিন্ন প্রাঙ্গণে দেখা যায় সারি সারি রঙিন সরা ও জলরঙের চিত্রকর্ম। গ্রামবাংলার নিসর্গ, শান্ত প্রকৃতি আর লোকজ জীবন উঠে এসেছে শিল্পীদের তুলিতে। জয়নুল গ্যালারি-র ভেতরে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের মুখোশ—বাঘ, প্যাঁচা, রাজা কিংবা কল্পনার বিচিত্র সব চরিত্র।

খোলা প্রাঙ্গণে ত্রিপলের নিচে তৈরি হচ্ছে বিশালাকৃতির কাঠামো—মোরগ, কাঠের হাতি, পায়রা। বাঁশ ও কাঠের সমন্বয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে এসব প্রতীকী অবয়ব। কোথাও শিক্ষক দিচ্ছেন দিকনির্দেশনা, আবার কোথাও শিক্ষার্থীরাই খুঁজে নিচ্ছেন নতুন শিল্পভাষা। সম্মিলিত এই প্রয়াসে উৎসবের রূপ নিচ্ছে আরও বর্ণিল।

পুরো পরিবেশে বিরাজ করছে এক অদৃশ্য উৎসবমুখরতা। কোথাও ভেসে আসছে বাংলা গানের সুর, কোথাও শোনা যাচ্ছে হাসির শব্দ। চারুকলার নবীন শিক্ষার্থী পলক হালদার বলেন, এই শোভাযাত্রার প্রস্তুতি অন্যরকম অনুভূতি দেয়—মনে হয় নিজের হাতেই সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নতুন বছরের প্রথম সকাল।

শুধু শিক্ষার্থী-শিক্ষকরাই নয়, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেও মুখর হয়ে উঠেছে চারুকলা। গৃহিণী মারুফা হাসান তাঁর মেয়েকে নিয়ে এসেছেন কাজ দেখতে। তার ভাষায়, এমন নির্মল আনন্দ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

এবার শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। চারুকলা অনুষদের ডিন শেখ আজহারুল ইসলাম চঞ্চল জানান, এবারের প্রতিটি মোটিফে রয়েছে প্রতীকী অর্থ ও সময়োপযোগী বার্তা। প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে একটি বিশাল মোরগের প্রতিকৃতি—যা নতুন দিনের সূচনা ও জাগরণের প্রতীক।

এছাড়া লোকজ ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি, সংগীতের প্রতীক হিসেবে দোতারা, শান্তির বার্তা বহনকারী পায়রা এবং কিশোরগঞ্জের পোড়ামাটির টেপা ঘোড়াও স্থান পেয়েছে এবারের আয়োজনে। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য ও সমকালীন ভাবনার মিশেলে গড়ে উঠছে এক বর্ণাঢ্য উৎসবের আবহ।