ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ইউরোপযাত্রায় ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির,উদ্ধার ১৮

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০২:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৩৫ Time View

ভূমধ্যসাগরে দুর্ঘটনার শিকার নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মিসরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি- এআই

অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টাকালে ভূমধ্যসাগরে খাদ্য সংকট ও নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে অন্তত ১১ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে মরদেহগুলো পচে যাওয়ায় সেগুলো সাগরেই ফেলে দিতে বাধ্য হন সহযাত্রীরা।

এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হয়েছেন আরও ১৮ জন বাংলাদেশি, যাদের মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে মিসরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

রবিবার (১৬ আগস্ট) উপকূল থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মিসরীয় পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানান, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজন সহযাত্রীর মৃত্যু হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে, যাদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার-পানি ছাড়াই বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়, ফলে নৌকাটি সাগরে ভাসতে শুরু করে। খাবার ও পানির তীব্র সংকটে একে একে কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং মরদেহে পচন ধরায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন সহযাত্রীরা।

টানা ৯ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হেকিমের ছেলে আবদুল করিম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় তারা আর সামনে এগোতে পারেননি এবং সেসময় তাদের উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি।

তিনি আরও জানান, খাবার ও পানির তীব্র সংকটে তাদের চোখের সামনেই একে একে বেশ কয়েকজন সহযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে দ্রুত দেশে ফেরার আকুতি জানান তিনি। তবে আবদুল করিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার পরিবার এখনো কিছু জানত না বলে জানিয়েছেন তার মা আকলিমা বেগম।

আবদুল করিমের মামা ও পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুর রাজ্জাক জানান, তার ভাগনে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছুই জানত না।

মিসরের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে, যাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে, তবে উদ্ধারকৃতদের জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপযাত্রায় ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ১১ বাংলাদেশির,উদ্ধার ১৮

প্রকাশের সময়ঃ ০২:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টাকালে ভূমধ্যসাগরে খাদ্য সংকট ও নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে অন্তত ১১ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে মরদেহগুলো পচে যাওয়ায় সেগুলো সাগরেই ফেলে দিতে বাধ্য হন সহযাত্রীরা।

এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হয়েছেন আরও ১৮ জন বাংলাদেশি, যাদের মিসরের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে মিসরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

রবিবার (১৬ আগস্ট) উপকূল থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মিসরীয় পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানান, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজন সহযাত্রীর মৃত্যু হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে, যাদের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার-পানি ছাড়াই বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়, ফলে নৌকাটি সাগরে ভাসতে শুরু করে। খাবার ও পানির তীব্র সংকটে একে একে কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং মরদেহে পচন ধরায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন সহযাত্রীরা।

টানা ৯ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হেকিমের ছেলে আবদুল করিম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় তারা আর সামনে এগোতে পারেননি এবং সেসময় তাদের উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি।

তিনি আরও জানান, খাবার ও পানির তীব্র সংকটে তাদের চোখের সামনেই একে একে বেশ কয়েকজন সহযাত্রীর মৃত্যু হয় এবং দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে দ্রুত দেশে ফেরার আকুতি জানান তিনি। তবে আবদুল করিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার পরিবার এখনো কিছু জানত না বলে জানিয়েছেন তার মা আকলিমা বেগম।

আবদুল করিমের মামা ও পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুর রাজ্জাক জানান, তার ভাগনে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছুই জানত না।

মিসরের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে, যাদের মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে, তবে উদ্ধারকৃতদের জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে উঠলে মিসরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।