ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
৮৪ উদ্ভাবনী প্রকল্পে চোখ ধাঁধানো প্রদর্শনী

মাগুরায় দুইদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

“উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরায় শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা পর্যায়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার।

উপজেলা প্রশাসন, মাগুরা সদর এর আয়োজনে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম, জাগলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দুইদিনব্যাপী এ মেলায় জেলার ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় মোট ২০টি স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে ৮৪টি উদ্ভাবনী বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা, রোবোটিক্স, স্বল্প খরচে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তবমুখী প্রকল্প দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেক প্রকল্পেই স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

মেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছে ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। এসব প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে তাদের মেধা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রতিযোগিতাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন তাদের মাঝে অনুসন্ধিৎসু মনোভাব সৃষ্টি করে এবং উদ্ভাবনী চিন্তার দ্বার উন্মুক্ত করে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে। এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের বিজ্ঞানমেলা শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শেখার প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে তারা দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণা পায়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবননির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

৮৪ উদ্ভাবনী প্রকল্পে চোখ ধাঁধানো প্রদর্শনী

মাগুরায় দুইদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

প্রকাশের সময়ঃ ১০:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

“উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরায় শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা পর্যায়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার।

উপজেলা প্রশাসন, মাগুরা সদর এর আয়োজনে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম, জাগলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দুইদিনব্যাপী এ মেলায় জেলার ২০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় মোট ২০টি স্টলে প্রদর্শিত হচ্ছে ৮৪টি উদ্ভাবনী বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা, রোবোটিক্স, স্বল্প খরচে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তবমুখী প্রকল্প দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেক প্রকল্পেই স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

মেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়েছে ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা। এসব প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে তাদের মেধা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রতিযোগিতাগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন তাদের মাঝে অনুসন্ধিৎসু মনোভাব সৃষ্টি করে এবং উদ্ভাবনী চিন্তার দ্বার উন্মুক্ত করে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে। এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের বিজ্ঞানমেলা শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শেখার প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে তারা দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণা পায়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবননির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।