ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

চলন্ত বাসে আগুন, মুহূর্তে আতঙ্ক: চালকের দ্রুততায় রক্ষা পেল প্রাণ

গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গোপালপুর মেলকাই এলাকায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে চালকের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও যাত্রীদের দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক-এর গোপালপুর মেলকাই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সাকুরা পরিবহন-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি চলন্ত অবস্থায় থাকতেই হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বাসচালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত বাসটি রাস্তার পাশে থামিয়ে দেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হলেও দ্রুত বাস থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।

যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সেকেন্ড দেরি হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বাস থেকে নেমে অনেকেই নিজেদের মালামাল ফেলে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে সরে যান। ফলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেলেও বাসটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। অনেককে দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া বাসটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়মিত পরীক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

চলন্ত বাসে আগুন, মুহূর্তে আতঙ্ক: চালকের দ্রুততায় রক্ষা পেল প্রাণ

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গোপালপুর মেলকাই এলাকায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে চালকের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও যাত্রীদের দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক-এর গোপালপুর মেলকাই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সাকুরা পরিবহন-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি চলন্ত অবস্থায় থাকতেই হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বাসচালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত বাসটি রাস্তার পাশে থামিয়ে দেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হলেও দ্রুত বাস থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।

যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক সেকেন্ড দেরি হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বাস থেকে নেমে অনেকেই নিজেদের মালামাল ফেলে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে সরে যান। ফলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো গেলেও বাসটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। অনেককে দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া বাসটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়মিত পরীক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।