ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

দাইপুখুরিয়া ইউ.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মহা. আসগর আলীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা মহলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ।

গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দায়ের করা অভিযোগে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) আসমা খাতুন, উচ্চমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আব্দুল করিম এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী নাসির উদ্দীন অভিযোগ করেন—প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতন ও মাসিক ফি’র বড় অংশ আত্মসাৎ করছেন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে সংগৃহীত অর্থও যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত না করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আজহার আলী সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করলেও তা আমলে নেননি প্রধান শিক্ষক। বরং তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী-তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে,পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে,শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচরণ ও হয়রানি করা হচ্ছে,ছুটি নিতে গেলে সৃষ্টি করা হচ্ছে নানা জটিলতা।

এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো-প্রধান শিক্ষক নিজ দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকলেও অফিস পরিচালনার দায়িত্ব অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেন। এমনকি কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের আয়া দিয়েও ক্লাস নেওয়ানো হয়েছে, যা শিক্ষার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও ২০১১ সালে মহা. আসগর আলী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় অনিয়মের ধারা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৫ সালের পরিপত্র লঙ্ঘন করে নিয়োগ পান—যা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

এছাড়া বিদ্যালয়ের নামে থাকা প্রায় ৬০-৭০টি দোকানঘরের জামানত ও ভাড়ার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা পুরো ঘটনাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

অভিযোগকারীরা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মহা. আসগর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়টি জানেন বলে স্বীকার করেন এবং নিয়োগে ত্রুটি থাকার কথাও মেনে নেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই বিস্ফোরক অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত কত দ্রুত সম্পন্ন হবে? এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

দাইপুখুরিয়া ইউ.সি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মহা. আসগর আলীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষা মহলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ।

গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দায়ের করা অভিযোগে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) আসমা খাতুন, উচ্চমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোঃ আব্দুল করিম এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী নাসির উদ্দীন অভিযোগ করেন—প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতন ও মাসিক ফি’র বড় অংশ আত্মসাৎ করছেন। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে সংগৃহীত অর্থও যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত না করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ আজহার আলী সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করলেও তা আমলে নেননি প্রধান শিক্ষক। বরং তার অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ অনুযায়ী-তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে,পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে,শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচরণ ও হয়রানি করা হচ্ছে,ছুটি নিতে গেলে সৃষ্টি করা হচ্ছে নানা জটিলতা।

এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো-প্রধান শিক্ষক নিজ দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকলেও অফিস পরিচালনার দায়িত্ব অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেন। এমনকি কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের আয়া দিয়েও ক্লাস নেওয়ানো হয়েছে, যা শিক্ষার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হলেও ২০১১ সালে মহা. আসগর আলী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় অনিয়মের ধারা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৫ সালের পরিপত্র লঙ্ঘন করে নিয়োগ পান—যা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

এছাড়া বিদ্যালয়ের নামে থাকা প্রায় ৬০-৭০টি দোকানঘরের জামানত ও ভাড়ার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা পুরো ঘটনাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

অভিযোগকারীরা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মহা. আসগর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়টি জানেন বলে স্বীকার করেন এবং নিয়োগে ত্রুটি থাকার কথাও মেনে নেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই বিস্ফোরক অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত কত দ্রুত সম্পন্ন হবে? এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল।